পাহাড়ের দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:৪৮ পিএম, ২০২৬-১০-১৫

পাহাড়ের দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু, এমপি।

তিনি বলেছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু আগাম সতর্কবার্তা তৈরি করলেই হবে না, বরং তা যেন দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো ও সহজ ভাষায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পাহাড়ে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সহায়তা বিভাগ (ইকো) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারির ইডেন গার্ডেন বলরুমে আয়োজিত ‘সুরক্ষা (SURAKKHA)’ প্রকল্পের জাতীয় শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড়ের পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও বনায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতির সহনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে উপযুক্ত পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অন্যতম মৌলিক সমস্যা সুপেয় পানির সংকট ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা উল্লেখ করে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুপেয় পানির সুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কিশোর ও তরুণসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বান্দরবানের রাজপুত্র মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে স্মার্টফোন ও অনলাইন গেমিংয়ের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থেকে বের করে খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্তা।

অনুষ্ঠানে পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।