পাহাড়ে কমেছে পাশের হার;রাঙামাটিতে ৬৭.৯২,খাগড়াছড়িতে ৬৮.৩৭,বান্দরবানে-৭০.৩০


আলমগীর মানিক    |    ০৪:০৫ পিএম, ২০২৩-০৭-২৮

পাহাড়ে কমেছে পাশের হার;রাঙামাটিতে ৬৭.৯২,খাগড়াছড়িতে ৬৮.৩৭,বান্দরবানে-৭০.৩০

আলমগীর মানিক

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পিছিয়ে পড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এবার এসএসসিতে পাশের হার গতবছরের তুলনায় কমেছে বলে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ জানিয়েছেন, পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এবার এসএসসি’তে পাশের হার ৬৭.৯২, গত বছর রাঙামাটিতে পাশের হার ছিলো ৮১.৬০।

পার্বত্য খাগড়াছড়িতে এবার পাশের হার ৬৮.৩৭, গত বছর খাগড়াছড়িতে পাশের হার ছিলো-৭৫.৮৭, অপরদিকে পার্বত্য বান্দরবান জেলায় এবার পাশের হার ৭০.৩০, বান্দরবানে গতবছর পাশের হার ছিলো ৭৮.৩৬। 

জেলার কাপ্তাই নৌ বাহিনী স্কুল এসএসসিতে ৯৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯৮জনই পাশ করেছে। তার মধ্যে ৫১জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলায় আর কোন স্কুলই শতভাগ পাশ করতে পারেনি।

জেলার মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে এসএসসির ফলাফল বিবরণী- রাঙামাটি সদর উপজেলায় এসএসসিতে উর্ত্তীণ ১৯৪৩ জন,এসএসসি (ভোকেশনাল) ৪৮২ জন ও দাখিল এ ১২৭ জন।কাপ্তাই উপজেলায় এসএসসিতে ১০৫৪ জন ও দাখিলে ১৩০ জন। কাউখালী উপজেলায় এসএসসিতে- ৯৮২জন এসএসসি(ভোকেশনাল) ১৯৪জন ও দাখিলে ১২৫ জন।

বিলাইছড়ি উপজেলায় এসএসসিতে ৩৯৯ জন, রাজস্থলী উপজেলায় এসএসসিতে৩০৪ জন এসএসসি(ভোকেশনাল) এ ১৪৪জন।নানিয়ারচর উপজেলায় এসএসসিতে ৭৫৪জন,বরকল উপজেলায় এসএসসিতে ৪৬১জন ও এসএসসি(ভোকেশনাল) এ ৩৭ জন।

জুরাছড়ি উপলোয় এসএসসিতে ২৪২ জন,লংগদু উপজেলায় এসএসসিতে ১০৭৮জন,দাখিলে ১২৯ জন এসএসসি(ভোকেশনাল) এ ৫৪ জন এবং বাঘাইছড়ি উপজেলায় এসএসসিতে ১১৭৪ জন, এসএসসি(ভোকেশনাল) এ ১৫২ জন ও দাখিল পরীক্ষায় ৩৬ জন উর্ত্তীণ হয়েছে।

একনজরে রাঙামাটি শহরের স্কুল গুলোর ফলাফল ও জিপিএ-৫ঃ- রাঙামাটি লেকার্স পাবলিক স্কুল ব্যবসায়ি শিক্ষা থেকে পাশ করেছে ২৮জন,ফেল-১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।বিজ্ঞান থেকে পাশ করেছে-৯১ জন ফেল-৩জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে- ২৯জন। রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায়ি শিক্ষায়  পাশ করেছে-১শ’জন,ফেল-৮জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪জন। মানবিক থেকে পাশ করেছে-৭৬ জন,ফেল  ১৪ জন,বিজ্ঞান থেকে পাশ করেছে-১২৪ জন, ফেল-১৫জন ও জিপিএ-৫  ২৫জন।

রাঙামাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবসায়ি শিক্ষা পাশ করেছে,৭৪ জন,ফেল ১৪ জন,জিপিএ-৫ পেয়েছে ২জন, মানবিক শাখা থেকে পাশ করেছে-৬০ জন ,ফেল-৫জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে-১জন এবং বিজ্ঞান থেকে পাশ করেছে-১১২ জন,ফেল-১০ জন,জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী- ব্যবসায়ি শিক্ষায় পাশ করেছে- ২৫জন,ফেল৭জন,মানবিক এ পাশ করেছে-৫৪জন,ফেল করেছে২৬ জন,বিজ্ঞান এ পাশ-৮জন ও ফেল-৫জন। 

শাহ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যায়ল-ব্যবসায়ি শিক্ষায় পাশ করেছে-২৮জন,ফেল-১২ জন,জিপিএ-৫ পেয়েছে-২জন। মানবিক এ পাশ করেছে-৪১ জন,ফেল-১০ জন,বিজ্ঞানে পাশ করেছে-২১ জন,ফেল-৫ জন। রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়-ব্যবসায়ি শিক্ষায় পাশ করেছে-৩১ জন,ফেল-১২ জন,মানবিক এ পাশ- ৫৫জন,ফেল-১০ জন ও বিজ্ঞানে পাশ করেছে-২৯ জন ,ফেল-৭জন।
 

শুক্রবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণাকালে নারায়ন চন্দ্র নাথ জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলা থেকে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো ৮ হাজার ৭৪২ জন, খাগড়াছড়ি থেকে ৯ হাজার ৮৬৬ জন, বান্দরবান থেকে ৪ হাজার ৯৪৫ জন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী। এই বোর্ডে পাসের হার ৭৮.২৯ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২১৬টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬৯ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। পাস করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী।

এদের মধ্যে ছাত্র ৬৮ হাজার ৩১৬ জন এবং ছাত্রী ৮৬ হাজার ৫০৩ জন। পাসের হার ৭৮.২৯ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় ৯.২৪ শতাংশ কম। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ছাত্র পাসের হার ৭৭.৭৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৯.৫৮ শতাংশ কম এবং ছাত্রী পাসের হার ৭৮.৭২ শতাংশ যা গত বছরের তুলনায় ৮.৯৭ শতাংশ কম।

এবার চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৪ জন ছাত্র এবং ৬ হাজার ৪৪৬ জন ছাত্রী।  গতবছর এই শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৬৬৪ জন।