পাহাড়ে ভয়াবহ পরিকল্পনা ইউপিডিএফ’র; আবারো ২ টেকনেশিয়ান অপহরণ


আলমগীর মানিক    |    ০১:৫৯ এএম, ২০২৫-০৪-২০

পাহাড়ে ভয়াবহ পরিকল্পনা ইউপিডিএফ’র; আবারো ২ টেকনেশিয়ান অপহরণ

আলমগীর মানিক

পার্বত্য চট্টগ্রামকে আবারো অস্থির করতে মাঠে নেমেছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী উপজাতীয়দের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ। দেশের চলমান পরিস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাশ^বর্তী দেশ থেকে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দিতে অপহরণসহ লুটপাটে নেমেছে ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে নিজ গোত্রিয় ৫ চবিয়ান শিক্ষার্থী ও তাদের বহনকারি অটো ড্রাইভারসহ মোট ৬জনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার(১৯ এপ্রিল) আবারো দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে বলে জানাগেছে।

শনিবার দুপুরে খাগড়াছড়ির জেলাধীন মানিকছড়িতে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি রবি’র দুই টেকনিশিয়ানকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। অপহৃতরা হলো, মো. ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও আব্রে মারমা (২৫)। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে মানিকছড়ি উপজেলার ময়ুরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে মানিকছড়ি উপজেলার খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন ধর্মঘরস্থ ময়ুরখীল বিলে থাকা রবি টাওয়ার মেরামত যায় টেকনিশিয়ান মো. ইসমাইল হোসেন ও আব্রে মারমা।

সেখানে হাজির কয়েকজন সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী। টেকনিশিয়ানদের টাওয়ার থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

মানিকছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, দুইজন টেকনিশিয়ান নিখোঁজ হয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ কোনো নিখোঁজ ডায়েরি কিংবা অভিযোগ করেনি। তারপরও আমরা খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এ ব্যপারে রবি’র কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এরআগে চলতি বছরের ৪ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজেলায় একটি টাওয়ার মেরামত করতে গিয়ে তিন সন্তানের জনক এক টেকনিশিয়ানকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর অদ্যবদি পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়নি ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা। অপহৃত ব্যক্তি রবির সিকিউরিটি পার্টনার হাইজিন সার্ভিস লিমিটেডের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। 

সংশ্লিষ্ট্য মোবাইল অপারেটরদের সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ গত কয়েক মাস ধরে রবি ও অন্যান্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক এক কোটি থেকে শুরু করে নিন্মে ৭০ লাখ ও এককালীন ১০ কোটি টাকা দাবি করছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় রাঙামাটির নানিয়ারচর, খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়িতে টাওয়ারের যন্ত্রপাতি ভাংচুর, ব্যাটারি লুট ও জেনারেটরে অগ্নিসংযোগ করেছে গোষ্ঠীটি। এতে রবি ও তার সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ হিসাবে উঠে এসেছে।

পার্বত্য তিন জেলায় রবির ৩২০টি টাওয়ার স্থানীয় সম্প্রদায়ের ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেও চাঁদাবাজির ঘটনায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। রবির সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "ই-কমার্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মোবাইল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সন্ত্রাসী তৎপরতা জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্থ করছে।"
প্রসঙ্গত, গত ২২ জানুয়ারি ভোরে একযোগে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙা উপজেলার ৮টি এবং রাঙামাটি জেলাধীন নানিয়ারচর কুতুকছড়ি, মহালছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালায় অন্তত ২৫টি রবি টাওয়ার ভাঙচুর, তছনছ ও আগুনে জ্বালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে সন্ত্রাসীরা। এর পর হতে ক্ষতিগ্রস্থ টাওয়ারের আওতায় থাকা লক্ষাধিক মোবাইল গ্রাহক গত ৩ মাস যাবৎ সেবা বঞ্চিত রয়েছে।  

এদিকে সরকারী একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই ইউপিডিএফ এর চাঁদাবাজি ও অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট্যভাবে জানতে পেরেছে বলে নিরাপত্তাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সূত্রটি জানায়, বর্তমান সময়ে আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত থেকে নিজেদের মধ্যে বুলেট সংকটে পড়ে ইউপিডিএফ। পানছড়ির সীমান্ত দিয়ে সাড়ে ৪শ একে-৪৭ রাইফেলের গুলি ও একশো পিছ শর্টগানের তাজা গুলি ভারত থেকে সংগ্রহ করেছে। এই সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে একটি সংস্থার কাছে। 

অপরদিকে, খুবই শীঘ্রই রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির অন্তত ৪২টি টাওয়ারে একযোগে হামলা চালিয়ে টাওয়ারগুলোর ব্যাটারি চুরি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছে নিজ দলের কর্মীদের। একটি টাওয়ারের রুমে যে ব্যাটারিগুলো ব্যবহার হয় সেগুলো অত্যন্ত দামী যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। 

চাঁদা না দেওয়ায় রবি কোম্পানীর টাওয়ারগুলোর ব্যাটারি চুরি করে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইউপিডিএফ এমন তথ্যও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা।