আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে রাঙামাটিতে এনসিপি’র র‌্যালী


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৩:৫৪ পিএম, ২০২৫-০৫-০১

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে রাঙামাটিতে এনসিপি’র র‌্যালী

১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ২০২৫ উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), শ্রমিক উইং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখা কর্তৃক এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। এসময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষ, সংগঠক ও নেতৃবৃন্দ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেনঃ মোঃ ইমাম হোছাইন ইমু, জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যমী সংগঠক এবং সমাজ সচেতন যুব প্রতিনিধি।

প্রধান বক্তার দায়িত্ব পালন করেন: কলিন্স চাকমা, কেন্দ্রীয় সংগঠক, শ্রমিক উইং, জাতীয় নাগরিক পার্টি।


তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন “আজকের দিনে আমরা শুধু স্মরণ করি না শ্রমিকদের আত্মত্যাগ, বরং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শপথ নিই। পাহাড়ি ও সমতলের শ্রমিকেরা যেন সমান সুযোগ পায়—এটাই আমাদের প্রধান দাবি। আমরা শ্রমজীবী মানুষের ভোটাধিকার, চিকিৎসা, বাসস্থান ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে চাই।শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দলীয়ভাবে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেন এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।

বক্তব্য রাখেন আরও দুজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা:  

মোঃ জাকির হোসেন
সংগঠক, জাতীয় নাগরিক পার্টি, রাঙ্গামাটি জেলা। তিনি বলেন,  
"মজুরি বৈষম্য, অস্থায়ী নিয়োগ, শ্রমিকদের প্রতি অবহেলা—এসব বন্ধ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সবখানে শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা শ্রমিকবান্ধব অর্থনীতি চাই।”

আরও বক্তব্য প্রদান করেন, 
উচামং মারমা
সংগঠক, শ্রমিক উইং, জাতীয় নাগরিক পার্টি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।  
তিনি বলেন “পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিকেরা বিশেষভাবে অবহেলিত। আমরা চাই স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কাজের পরিবেশে সমতা নিশ্চিত হোক।”

প্রধান বক্তা কলিন্স চাকমা উত্থাপিত দাবিসমূহঃ

১. শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা।
   – সকল শ্রমিককে জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি প্রদান।

২. অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ।
   – চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক মজুরির নামে শ্রমিক শোষণ বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করা।

৩. শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও সুবিধা চালু করা। 
   – চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বীমা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, পেনশন, বাসস্থান ইত্যাদি।

৪. পার্বত্য ও প্রান্তিক অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষ বরাদ্দ।
   – যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মপরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবি।

৫. নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।  – যৌন হয়রানি রোধ, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও শিশু যত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

৬. শ্রমিকবান্ধব আইন বাস্তবায়ন ও শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ।

জাতীয় নাগরিক পার্টি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়—   আমরা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সর্বদা সচেতন ও সংগ্রামী। মে দিবস আমাদের আন্দোলনের নতুন প্রত্যয়। দাবি আদায়ের সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের পাশে আছি, থাকবো! শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও সংহতির বন্ধনে গড়ে উঠুক মানবিক বাংলাদেশ।