পিসিসিপি'র তীব্র প্রতিবাদে ইউপিডিএফের সাথে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বাতিল


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:২১ এএম, ২০২৫-০৫-১৫

পিসিসিপি'র তীব্র প্রতিবাদে ইউপিডিএফের সাথে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বাতিল

ইউপিডিএফ এর সাথে ঐকমত্য কমিশন বৈঠক করার চেষ্টা করলে সার্বভৌমত্বের স্বার্থে পার্বত্যবাসী তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে বলে বিবৃতি দেয় পিসিসিপি।

বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বলা হয়, গত ১২ মে ২০২৫ তারিখ সোমবারে রাঙ্গামাটি তে বিশাল মহাসমাবেশ ও খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন এবং ১১ মে রবিবার বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ এর সাথে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আগামীর দ্বিতীয় বৈঠকটি বাতিলের দাবি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।

কিন্তু কমিশন সেই বৈঠকটি এখনও বাতিল না করায় পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এবং উক্ত বৈঠক বাতিলের দাবি জানিয়ে (১৪ মে) বুধবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানান পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঐকমত্য কমিশন পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ এর সাথে যদি শান্তিপ্রিয় ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের কথা কর্ণপাত না করে বৈঠক বহাল রাখে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম অচল করে দেওয়া হবে। এবং কোন অপ্রতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়ভার ঐকমত্য কমিশন কে নিতে হবে।

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়, ১৪ মে সন্ধ্যায় এই বিবৃতি দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই দুইটি

গণমাধ্যমের নিউজের মাধ্যমে জানা যায়, সর্বত্র প্রতিবাদের মুখে ইউপিডিএফের সঙ্গে আগামী ১৭ মে শনিবার নির্ধারিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকটি অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে ঐকমত্য কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যেহেতু বৈঠক বাতিলের খবর নিশ্চিত করা গিয়েছে তাই পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, সেই সাথে সর্তক করে দিয়েছে ভবিষ্যতে ঐকমত্য কমিশন যদি পাহাড়ের কোনো সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে বৈঠকের পুনরায় বসার চেষ্টা করে তাহলে কঠোর ভাবে প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।

ইতিহাসের অন্যতম প্রতিবাদ করে পিসিসিপি, রাঙ্গামাটিতে মহাসমাবেশ করে পিসিসিপি, সমাবেশ থেকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয় সন্ত্রাসীদের সহযোগীদের কাউকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না, এবং ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানানো হয়। আরো আল্টিমেটাম দেওয়া হয় যদি ঐকমত্য কমিশন ইউপিডিএফের সাথে বৈঠক বাতিল না করে তাহলে পাহাড় অচল করে দেওয়া হবে।

পিসিসিপি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে যাওয়ার পরও দু-একটি গণমাধ্যম পিসিসিপি'র আন্দোলনকে অন্য সংগঠনের আন্দোলন বলে প্রচার করে ঘৃণ্য মানুষিকতা প্রকাশ করেছে। আমরা তাদের সঠিক নিউজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আরো জানানো হয়,

পিসিসিপি'র ডাকে সকলে প্রতিবাদে সামিল হওয়ায় পাহাড়ের সকল ছাত্র জনতাকে ও ঢাকার বিভিন্ন সংগঠন যারা একই ইস্যুতে প্রতিবাদ করেছে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পিসিসিপি'র কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।