নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১:৪৪ পিএম, ২০২৫-০৭-০৮
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এরই মধ্যে সে অভিযোগ পৌঁছেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে)। পরিষদের চেয়ারম্যান,নির্বাহী কর্মকর্তা,নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, পিসি, ফাইলের বিপরীতে পার্স্টেনটিস আদায়,চেকের বিপরীতে অর্থ লেনদেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে রীতিমত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
এছাড়াও ৭ জুলাই অসদাচারণ, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি অভিযোগে চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে সকল কার্যক্রম স্থগিত করে পরিপত্র জারি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এদিকে- সম্প্রতি খাগড়াছড়ির মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগারের সাধারণ সদস্য মো. আরাফাত হোসেন রিজভী দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানে এক অভিযোগ দাখিল করে।
প্রকল্পের অর্থছাড়ের বিপরীতে খাগড়ছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে বরাদ্দের ১০ শতাংশ, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ’র বিরুদ্ধে ৫ শতাংশ, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে ৫ শতাংশ ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আশীষ চাকমার বিরুদ্ধে ২ শতাংশ পার্সোনাল কমিশন বা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে। সে ঘুষ না পেলে চলে না ফাইল, হতে হয় হয়রানীসহ নাানা সদস্যায় এমনি অভিযোগের শেষ নেই।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক আবেদনে মো. আরাফাত হোসেন রিজভী উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগার কেন্দ্রের উদ্যোগে গ্রুপ ভিত্তিক বই পড়া কর্মসূচি পালন, ১৫৫নং প্রকল্পে সর্বমোট ৫০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দ ২০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের উন্নয়ন স্কিম প্রণয়ন (ডিএসপি) প্রস্তুতের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের কাগজ নিয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের কাছে গেলে তিনি টাকা ছাড়া কোনো কাজ হবে না’ বলে জানিয়ে দেন। এরপর থেকেই ধাপে ধাপে হয়রানী করে বলে জানানো হয়।
প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে বরাদ্দের বিপরীতে চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ১০ শতাংশ, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ ৫ শতাংশ, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান ৫ শতাংশ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আশীষ চাকমা ২ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। দাবি করা ঘুস প্রদানে অস্বীকৃতি করায় নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাজেট ৩০ লাখ টাকার মধ্যে অগ্রিম ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা অর্থ ছাড়ের জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক গত ১৩ মে শেফালিকা ত্রিপুরা আবেদন করেন। কিন্তু প্রকল্পে ঘুষ না পাওয়ার কারণে চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা উত্তেজিত হয়ে গত ২ জুন সহকারী প্রকৌশলী অপু বড়ুয়ার শার্টের কলার ধরে তাকে অপমান করেন।তারপর মিসেস শেফালিকা ত্রিপুরাকে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। এরপরও নানা রকম হয়রানি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর করা আবেদনপত্রে।
খাগড়াছড়ির মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগারের সাধারণ সদস্য মো. আরাফাত হোসেন রিজভী বলেন, ‘আমার অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ দুদক চেয়ারম্যানের কাছে গত ৬ জুলাই ডাকযোগে পাঠিয়েছি। অপর দিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেফালিকা ত্রিপুরা জানান, নির্বাহী কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মকর্তার ঘুষ দাবির বিষয়টি আমি জানি না। তবে চেয়ারম্যান ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার চেক দিতে তিনি এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ সময় চেয়ারম্যান বলেন. মন্ত্রণালয় থেকে এমনি এমনি টাকা আসে না, সেখানেও টাকা দিয়ে বরাদ্দ আনতে হয়।’
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার মুঠোফোনে কল দেয়া হলে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যেটা আপনি দেখেছেন। সেটা আমি দেখেছি বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আশীষ চাকমা উৎকোচ নেয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে বক্তব্যের জন্য কল দিলে ফোন রিসিভ না করে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য হলে আমার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হোক। আর যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি যদি তথ্য-প্রমাণ দিতে না পারে তাহলে উনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে জানিয়ে অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি জানান।
নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ অতিষ্ঠ ছিলো ঠিকাদার থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষ। সাধারন জনগণও চেয়ারম্যানের অনিয়মের অভিযোগ তুলে মিছিল-মিটিং সমাবেশ করে রাজপথে। এতো সবের পরও তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সম্প্রতি চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে পরিষদের ১৪ জন সদস্যকে অবমূল্যায়ন, খারাপ আচরণ, হস্তান্তরিত বিভাগের বিভাগের প্রধান ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচারণ, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতিসহ শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদার বিলের ফাইল আটকিয়ে রেখে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম দুর্নীতির অভিযোগে সকল কার্যক্রম স্থগিত করে পরিপত্র জারি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ যে, গত বছরের ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান এবং আরও ১৪ জন সদস্য নিয়ে পুনর্গঠন করা হয় অন্তর্র্বতীকালীন খাগড়াছড়ি পার্বত্য পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর তিনদন পর ১০ নভেম্বর নব নিযুক্ত সদস্যদের নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রোজ্জল চাকমা আবারও বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদমে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদর...বিস্তারিত
নানিয়ারচর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited