নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২:৩৫ এএম, ২০২৫-১২-২৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর জোটে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সমমনা আট দলের এই জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আরও চারটি রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এসব দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অন্যতম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজই নতুন দল যুক্ত হওয়া ও আসন সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
আট দলীয় জোটের একাধিক সূত্র জানায়, এনসিপির পাশাপাশি আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও লেবার পার্টি এই নির্বাচনী জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে।
নতুন দল যুক্ত হওয়ায় আসন সমঝোতা প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হলেও জোটের লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের পথে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ৮ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মোট আসনের প্রায় ৮০ শতাংশ বণ্টনের বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছে।
বাকি ২০ শতাংশ আসনের বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আগামীকালের মধ্যেই পুরো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো কারণে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হলেও এতে সমস্যা নেই।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সমঝোতার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বৃহত্তর জোটের স্বার্থে যে কোনো প্রার্থী যে কোনো সময় ছাড় দিতে প্রস্তুত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির আলোচনা অত্যন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সবাই দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছে। এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে জোটের পরিধি আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি, গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে সম্প্রতি যুগপৎ কর্মসূচি পালন করে আসছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ এই আট দল।
এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী জোটকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তরুণ নেতৃত্বনির্ভর দল এনসিপির যোগদানের মাধ্যমে শিগগিরই বড় পরিসরে এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে।
ইসলামী আন্দোলনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, দেশের মূলধারার প্রায় সব ইসলামী দল এই জোটের সঙ্গে রয়েছে।
বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুটি দল ভিন্ন পথে হাঁটলেও বাস্তবে আট দলীয় জোটই সবচেয়ে শক্তিশালী ইসলামী রাজনৈতিক জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
সূত্র অনুযায়ী, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ইসলামী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে নেওয়ার আলোচনা জোরদার হয়।
এ উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) এবং তাকে সমর্থন দেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এই দুই নেতার সম্মিলিত উদ্যোগ ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান সাফল্য দেখিয়েছে।
গত জুলাই মাসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর পৃথক মহাসমাবেশে এনসিপিসহ অন্তত দশটি ইসলামী ও সমমনা দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
ওই সমাবেশগুলোতে বক্তারা আগামী নির্বাচনে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর ভোট এক বাক্সে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর ইস্যুতে সম্প্রতি জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়।
তবুও সর্বশেষ আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে জোট ও আসন সমঝোতার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আজই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
জানা গেছে, জামায়াত প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০টি আসন এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, যদিও এনসিপি শুরুতে ৫০টির বেশি আসন দাবি করেছিল।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে এনসিপির ভেতরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এবং নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে দলের ৩০ জন নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হকও পদত্যাগ করেছেন। সাবেক দুই ছাত্র উপদেষ্টা ও তাদের অনুসারীরা বিএনপির সঙ্গে জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
পাশাপাশি এনসিপির একাধিক নারী নেত্রী জামায়াতের সঙ্গে জোটে যেতে অনাগ্রহী—এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দলের ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং আজই আসন সমঝোতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
এদিকে এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটেও ভাঙনের আভাস দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম অভিযোগ করে বলেন, এনসিপি ও এবি পার্টি বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে আলাদা করে আসন সমঝোতার আলোচনা করছে—এমন খবর জোটের অন্য শরিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
খবরটি সত্য হলে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এই জোটে থাকবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট আরও বড় হবে এবং অন্য দলও এতে যুক্ত হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জোটের মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম—তার আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী অবস্থান নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি।
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রোজ্জল চাকমা আবারও বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদমে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদর...বিস্তারিত
নানিয়ারচর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited