জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: সামান্তা শারমিন


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:৩৫ পিএম, ২০২৫-১২-২৮

জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: সামান্তা শারমিন

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) বড় ধরনের রাজনৈতিক মূল্য চুকাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট না করার আহ্বান জানান।

নিজের ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয় এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমঝোতা এনসিপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জামায়াত নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন—জুলাইয়ের স্পিরিট ও বাংলাদেশ বিষয়ে তাদের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত দলগুলোকেই কেবল জোটে নেওয়া হবে, যা এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও লেখেন, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শিক ভিত্তি জামায়াতের সঙ্গে মৌলিকভাবে ভিন্ন।

বিচার, সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচন তথা সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা—এই তিনটি মূল ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান ছাড়া কোনো রাজনৈতিক মিত্রতা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সামান্তা শারমিন তার পোস্টে দাবি করেন, সংসদীয় সংস্কারের প্রশ্নে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) ইস্যু সামনে এনে জামায়াত সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

এ কারণেই দলের আহ্বায়ক পূর্বে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে নয়—তাদের সঙ্গে জোটের কোনো সুযোগ নেই।

সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় জুলাই পদযাত্রার পর এনসিপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং সারা দেশ থেকে প্রার্থী আহ্বান করে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সমালোচনা করাকে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেওয়া হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

বরং এনসিপি প্রতিষ্ঠার সময় যে রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতিগত অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটিকেই তিনি যথার্থ মনে করেন।

তার মতে, বিএনপি হোক বা জামায়াত—যে কোনো পক্ষের সঙ্গে জোট করলেই তা এনসিপির নীতিগত অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার শামিল হবে।