ছাত্রলীগ করা অপরাধ হলে সারজিস আলমও অপরাধী: মাহদী হাসান


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:২৭ এএম, ২০২৬-০১-০৪

ছাত্রলীগ করা অপরাধ হলে সারজিস আলমও অপরাধী: মাহদী হাসান

ছাত্রলীগের সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকার কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতার বিরোধিতা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসান।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র সংগঠনের পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও সেই একই অভিযোগের আওতায় পড়েন।

একটি ভিডিওবার্তায় মাহদী হাসান বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন পরিচয়কে কেন্দ্র করে কাউকে অপরাধী আখ্যা দেওয়ার রাজনীতি তিনি মানেন না।

তিনি বলেন, “পূর্বে ছাত্রলীগ করার কারণে যদি কেউ অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের যে সকল মূল সমন্বয়কারী ভাইয়েরা ছিলেন, তাদের মধ্যেও সারজিস আলম ভাই রয়েছেন।

তিনিও একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাহলে তাকেও কি অপরাধী বলা হবে?”

মাহদী আরও বলেন, এমন উদাহরণ অসংখ্য দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে হবিগঞ্জসহ সারা দেশে একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে—যারা নিরপরাধ, কিন্তু একসময় ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই ট্যাগিং-এর রাজনীতি আমরা, যারা জুলাই গণ–আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”

এদিকে মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করা হয়।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মাহদী হাসানের আটকের প্রতিবাদে শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা।

এ সময় শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’—এমন নানা স্লোগান দেন।

রাত সোয়া ১২টার দিকে আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।

একই সঙ্গে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণকে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কার্যক্রমের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারির দাবিও জানান তিনি।

মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রিফাত রশিদ বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তিনি মাহদীকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তার আশ্বাসের প্রতি প্রাথমিকভাবে আস্থা রেখে আপাতত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে রাতের মধ্যেই মুক্তি না দেওয়া হলে পরদিন সারা দেশ অচল করে দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে ‘বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল’—এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই বক্তব্যের সূত্র ধরেই শনিবার সন্ধ্যায় মাহদী হাসানকে আটক করা হয়।