অর্থের অভাবে মৃত্যুর কোলে হেলে পড়ছেন ফালান


মেহেদী হাসান    |    ১০:৫৯ পিএম, ২০২৬-০১-০৫

অর্থের অভাবে মৃত্যুর কোলে হেলে পড়ছেন ফালান

একসময়ের সুঠাম দেহের অধিকারী পরোপকারী সমাজসেবক আবু বক্কর ছিদ্দিক (ফালান) (৪৫) বর্তমানে অর্থের অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

তিনি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনী ইউনিয়নের পূর্ব জারুল বাগান এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক মাইনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুলের ছোট ভাই।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে আসা ফালান হঠাৎ করেই গত বছর থেকে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার কোমরের দুটি কশেরুকা (কড়ি) সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই দুটি কশেরুকাই সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, যার ফলে তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সবাই একবাক্যে জানিয়েছেন—এক মাসের মধ্যেই দুটি অস্ত্রোপচার করাতে হবে।

প্রতিটি অপারেশনে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে। অর্থাৎ মোট অপারেশন খরচ প্রায় ৭ লাখ টাকা। এর বাইরে রয়েছে ওষুধ, হাসপাতাল ও যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফালান তার জীবনে কোনো অর্থ-সম্পদ সঞ্চয় করতে পারেননি। তার পরিবারে রয়েছে একজন স্ত্রী ও তিনটি কন্যাসন্তান।

তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অসুস্থতার কারণে পুরো পরিবার এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

সংসার চালানো তো দূরের কথা, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এমন অবস্থায় ফালানের পরিবার মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছে। স্ত্রী চান তার স্বামীকে বাঁচাতে, আর শিশুকন্যারা বাবাকে ফিরে পেতে চায়।

চোখের সামনে একটি তাজা প্রাণ কেবল অর্থের অভাবে ঝরে যেতে পারে—এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না তারা।

ফালানের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাই সারাজীবন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে।

আজ সে নিজেই অসহায়। সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক হৃদয়ের ভাই-বোনদের কাছে আমার আকুতি—আপনারা সহযোগিতা করলে আমার ভাই বেঁচে যেতে পারে।

সে কখনো কারও ক্ষতি করেনি। দয়া করে তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বাঁচার একটি সুযোগ করে দিন।”