১২ জনের সিন্ডিকেট’ কবলে মাইনীমূখ বাজার, বিপর্যস্ত কৃষক ও মানুষ


মেহেদী হাসান    |    ১১:৫৪ পিএম, ২০২৬-০১-১৪

১২ জনের সিন্ডিকেট’ কবলে মাইনীমূখ বাজার, বিপর্যস্ত কৃষক ও মানুষ

লংগদু উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাইনীমূখ বাজার প্রতিদিনই কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে।

এই বাজারকে ঘিরেই এলাকার বহু মানুষের জীবিকা। কিন্তু এই কোলাহলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, দখলদারি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আজ কৃষক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতি শনিবারের সাপ্তাহিক হাটে বাজারের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। গরুর হাট, মুরগির বাজার ও কাঁচামালের জন্য আলাদা জায়গা থাকলেও বাস্তবে সবকিছুই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিশেষ করে গরুর বাজারে সরকারি নির্ধারিত রেটের কোনো নোটিশ বোর্ড নেই। ফলে কে কত টাকা আদায় করবে, তা নির্ভর করে হাসিল আদায়কারীর খেয়ালখুশির ওপর।

এতে করে প্রায়ই বিক্রেতা ও আদায়কারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারটি বহু বছর ধরে একটি ‘১২ জনের সিন্ডিকেট’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

কাগজে-কলমে একজনের নামে বাজারের ডাক দেখানো হলেও বাস্তবে অর্থ দেন অন্যরা।

কাঁচামালের বাজারের অবস্থাও কম উদ্বেগজনক নয়। কৃষকেরা নিজের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে এসে বাজারে বসার জায়গা পান না।

ফাঁকা জায়গাগুলো আগেই ভাগ হয়ে যায়। এমনকি ফুটপাত পর্যন্ত আগাম ভাড়া দেওয়া হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করে প্রভাবশালী দোকানদার ও বাজার কমিটির একটি অংশ।

এর ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করেন। পরে সেই পণ্যই সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি হয়।

বাজারের মাঝখানের অবস্থা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। একসময় সেখানে সারি সারি টং দোকান বসিয়ে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হতো, যা মানুষের চলাচল ও যানবাহনের জন্য মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।

বর্তমানে মাঝখান কিছুটা ফাঁকা থাকলেও আবারও টং দোকান বসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো প্রশাসনের নীরবতা। সরকারি রেট চার্ট না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত আদায় চলছেই।

নিয়ম থাকলেও তার প্রয়োগ নেই—এমন অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।

তারা বলছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এই বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।