ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ছাড়ার ঘোষণা সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমার


আলমগীর মানিক    |    ১২:৫০ এএম, ২০২৬-০১-১৭

ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ছাড়ার ঘোষণা সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমার

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়ে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি একসময়কার বন্ধুপ্রতিম সংগঠন জেএসএস (এম.এন. লারমা)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার ইতি টানার কথাও জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি নিজেই এই ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অগণতান্ত্রিক ও চুক্তিবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গঠন করা হয়েছিল।

সে সময় সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা। তবে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গতিশীলতা ও বিকাশে ভীত হয়ে প্রতিপক্ষ প্রসীত গং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ তপন জ্যোতি চাকমার মৃত্যুর পর সাংগঠনিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সেই সময় রাজনৈতিকভাবে তিনি জেএসএস (এম.এন. লারমা)-এর সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছিলেন।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক হামলা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে।

এই লড়াইয়ের পথে যেমন জেএসএস (এম.এন. লারমা)-এর বহু নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, তেমনি ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর অসংখ্য ত্যাগী ও সাহসী নেতা-কর্মীও জীবন উৎসর্গ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্যামল কান্তি চাকমা বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সময় একপর্যায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এনে দেয়।

সম্পর্ক ভালো রাখার বাস্তব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দলের কিছু হঠকারী ব্যক্তি এবং বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের কয়েকজন সদস্য আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। এর ফলে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দেয়।”

এই প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, সংগঠনের ভেতরে স্বার্থন্বেষী ও ক্ষমতালোভী ব্যক্তিদের প্রভাব থেকে দলকে রক্ষা করার স্বার্থে এবং একসময় ভাইয়ের মতো পাশে থাকা সংগঠনের সঙ্গে আর একসঙ্গে চলার বাস্তব পথ না থাকায় তিনি ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবৃতির শুরুতেই তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকারহীন জনগণ ও সংগ্রামী সহযোদ্ধাদের প্রতি সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আন্দোলনে শহীদ সকলের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।