নবনির্বাচিত এমপিদের অভিনন্দন, ৩ দফা দাবি পিসিসিপির


মেহেদী হাসান    |    ১১:০৮ পিএম, ২০২৬-০২-১৪

নবনির্বাচিত এমপিদের অভিনন্দন, ৩ দফা দাবি পিসিসিপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬-এ তিন পার্বত্য জেলা সহ সারাদেশে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম স্বাক্ষরিত এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ অভিনন্দন জানানো হয়।

শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি জনগণের এ আস্থা পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতি গভীর প্রত্যাশার প্রতিফলন।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর কার্যকর ও টেকসই সমাধান দিতে সক্ষম—এমন বিশ্বাস ব্যক্ত করে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং সকল নাগরিকের ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি তিন দফা বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে পিসিসিপি।

পিসিসিপির তিন দফা দাবি ও আহ্বান:

১. শান্তি চুক্তি বাতিল ও সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ:
পাহাড়ে সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’ বাতিলের দাবি জানায় সংগঠনটি।

এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা উত্থাপন করে বাঙালি–অবাঙালি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

২. ভূমি অধিকার সুরক্ষা ও পুনর্বাসন:
পাহাড়ের মানুষের ভূমি ও বসবাসের নিরাপদ অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পিসিসিপি।

৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
বিভেদমূলক রাজনীতি পরিহার করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যে সামাজিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

ভয়মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি করে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধশালী মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও আশা প্রকাশ করা হয়, নতুন সংসদ সদস্যরা জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পাহাড়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।