সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএলএ’র মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ, আতঙ্কে জনপদ


ওমর ফারুক সুমন    |    ১০:২৩ পিএম, ২০২৬-০২-২৬

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএলএ’র মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ, আতঙ্কে জনপদ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম ভুয়াছড়ি এলাকার মিতিংগাছড়ি পাড়ায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জুম্ম লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)-এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টানা গোলাগুলি চলে।

মাসালং বাজার থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে দুর্গম ভুয়াছড়ি এলাকার ওপর মিতিংগাছড়ি নামক স্থানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য সংগ্রহে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে বলেও জানা যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গুলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।

পাহাড়ি জনপদে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে একই সময়ে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা এলাকাতেও দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনারও বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাজেক থানার সার্কেল অফিসার ও রাঙামাটির সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহামুদুল হাসান বন্দুকযুদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে হতাহতের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এ ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।