বেকারত্ব জয় করে অর্ধকোটি টাকার খামারের মালিক আছোমং মারমা


আইয়ুব চৌধুরী    |    ০৭:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৩-০২

বেকারত্ব জয় করে অর্ধকোটি টাকার খামারের মালিক আছোমং মারমা

একসময় বেকার ছিলেন আছোমং মারমা। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর দীর্ঘদিন কোনো কাজ না থাকায় তিনি পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

তবে হতাশ না হয়ে প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি একজন সফল খামার উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুদুমছড়া পাড়ার বাসিন্দা।

২০১৩ সালে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে পশুপালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ছোট পরিসরে শুকর ও ছাগল পালন শুরু করেন।

শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও সঞ্চয় বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে তিনি খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

২০২০ সালে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১৩টি গরু দিয়ে গবাদিপশুর খামার শুরু করেন।

সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে তার খামার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়।

বর্তমানে তার খামারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

এখন তার খামারে গরু, ছাগল ও শুকর পালন করা হয়। বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের পশু বিক্রি করেন তিনি।

খামারে বর্তমানে ৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন, যা স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আছোমং মারমা জানান, তিনি ধাপে ধাপে খামারটি আধুনিকায়ন করতে চান। সরকারের আর্থিক সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে খামার আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রিয়রতন চাকমা বলেন, এটি রাজস্থলীর একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। আছোমং মারমা বেকার যুবকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।