রাঙামাটিতে পুলিশী তৎপরতায় মিললো ৭ মাস আগে গাজীপুরের নিখোঁজ তামীমের সন্ধান


আলমগীর মানিক    |    ০৭:৫৫ পিএম, ২০২৬-০৩-২২

রাঙামাটিতে পুলিশী তৎপরতায় মিললো ৭ মাস আগে গাজীপুরের নিখোঁজ তামীমের সন্ধান

প্রায় ৭ মাস ২২ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে গাজীপুরের কিশোর তামীম আল হাসানকে উদ্ধার করেছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ।

রোববার বিকেলে রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় তামীমকে শনাক্ত করা হয়।

ইতোমধ্যে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোর তামীম আল হাসানের বর্তমান ঠিকানা গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার দক্ষিণপাড়া, বারেন্ডা গ্রাম, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড নং-০৩।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পিতা মো. মোজাম্মেল হক কাশিমপুর থানায় একটি জিডি করেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তামীম জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে অভিমান করে সে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। সেখানে একটি ফুচকার দোকানে কাজ করে দীর্ঘদিন অবস্থান করছিল।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৫০০ টাকার প্যাকেজে রাঙামাটি ভ্রমণে আসে।

গত শনিবার রাতে ঢাকার সায়দাবাদ থেকে বাসে রওনা দিয়ে রোববার সকালে রাঙামাটিতে পৌঁছে এবং ট্যুর গাইডের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসে।

ওসি জসিম উদ্দিন জানান, রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জিডিতে উল্লেখিত কিশোরের ছবি বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সরবরাহ করে তল্লাশি শুরু করা হয়।

তিনি নিজেও ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় গিয়ে পর্যটকদের মধ্যে সন্দেহভাজনদের পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় জিডিতে থাকা ছবির সঙ্গে মিল পেয়ে তামীমকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং দীর্ঘদিন আগে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে।

এরপর গাজীপুরের কাশিমপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।