সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ, ব্যয় কমানোসহ একাধিক সিদ্ধান্ত সরকারের


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১২:৪২ পিএম, ২০২৬-০৪-০৩

সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ, ব্যয় কমানোসহ একাধিক সিদ্ধান্ত সরকারের

স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে।

ব্যাংকিং খাতে লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এছাড়া, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সকল শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবার আওতায় থাকা কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নতুন যানবাহন, জলযান বা উড়োজাহাজ ক্রয় বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে কম্পিউটারসহ অন্যান্য নতুন সরঞ্জাম কেনাও স্থগিত রাখা হয়েছে।

সরকারি ব্যয় কমাতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং সভা-সেমিনারের খরচ ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি অর্থায়নে বিদেশে সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ে বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা খাত নিয়েও শিগগিরই নতুন নির্দেশনা আসছে বলে জানিয়েছেন সচিব। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়া হবে যাতে শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

পরিবহন খাতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে নতুন বাস আমদানি করতে পারবে। বেসরকারি খাতেও একই সুবিধা থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যবহারে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে পুরোনো বাস আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।