রাঙামাটিতে মৃত্যুকে হার মানিয়ে ফিরল কিশোর রুবেল: চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:৪৩ পিএম, ২০২৬-০৪-০৯

রাঙামাটিতে মৃত্যুকে হার মানিয়ে ফিরল কিশোর রুবেল: চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য

রাঙামাটি শহরের ইসলামপুরে ঘটে গেল এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই—জীবন আর মৃত্যুর।

১৪ বছর বয়সী কিশোর রুবেল গতকাল দুপুরে একটি মারাত্মক বিষধর সাপ, কিং কোবরা (শঙ্খচূড়)-এর কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

প্রথমে সাপটিকে শনাক্ত করা না গেলেও ধীরে ধীরে তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী নিউরোটক্সিক বিষ।

সময় যত গড়াতে থাকে, রুবেলের শারীরিক অবস্থা ততই অবনতির দিকে যেতে থাকে। আজ সকালে তাকে দেখতে এসে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উসা মং মারমা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।

রুবেল তখন চোখ খুলে রাখতে পারছিল না, চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছিল। শরীরের পেশিগুলো ধীরে ধীরে অবশ হয়ে পড়ছিল।

সবচেয়ে সংকটজনক মুহূর্ত আসে যখন তাকে পানি পান করানোর চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু গলার পেশি কাজ না করায় পানি গিলতে না পেরে তা নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে। এটি ছিল স্পষ্ট সংকেত—শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশিও যেকোনো সময় বিকল হয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় দ্রুত খবর দেওয়া হয় বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. গৌরব দেওয়ান-কে, যিনি বাংলাদেশের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকার অন্যতম প্রণেতা এবং আদিবাসীদের মধ্যে প্রথম মেডিসিনে এফসিপিএস ডিগ্রিধারী। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে চিকিৎসার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

তার সঙ্গে যোগ দেন ডা. উসা মং মারমা এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সওকত আকবর নয়ন খিসাসহ একটি নিবেদিতপ্রাণ দল। পুরো হাসপাতালজুড়ে তখন চাপা উত্তেজনা—প্রতিটি মুহূর্ত যেন একেকটি পরীক্ষার।

চিকিৎসকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে রুবেলের শরীরে অ্যান্টি-ভেনম প্রয়োগ করেন। সময় যেন থমকে দাঁড়ায়। কয়েক মিনিটের সেই প্রতীক্ষা ছিল জীবন-মৃত্যুর সীমারেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এক লড়াই।

অবশেষে আশার আলো দেখা যায়। রুবেলের চোখের পাতা কাঁপতে শুরু করে, সে অস্পষ্টভাবে কথা বলার চেষ্টা করে।

ধীরে ধীরে তার অবশ হয়ে যাওয়া আঙুলগুলো নড়তে শুরু করে। চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্তে রুবেল ফিরে আসে মৃত্যুর দুয়ার থেকে।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল—সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রয়োগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে সাপের কামড়ের জন্য প্রণীত গাইডলাইন এবং দক্ষ চিকিৎসক দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এক কিশোর নতুন জীবন ফিরে পেল।