সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় ভীত পাহাড়: এক মাসে নিহত ৮, নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০২:০৫ এএম, ২০২৬-০৪-১৭

সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় ভীত পাহাড়: এক মাসে নিহত ৮, নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে গত এক মাসে সশস্ত্র তৎপরতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে সহিংস পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন সাধারণ নাগরিক এবং সাতজন সশস্ত্র সদস্য রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাপ ও নির্যাতন বেড়েছে। বিশেষ করে জুমচাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে চাঁদা দাবি, হুমকি এবং অপহরণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসীদের নির্দেশ অমান্য করায় এক পাহাড়ি গ্রামবাসীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে নিহত ওই সাধারণ নাগরিকের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অন্যদিকে, বান্দরবানের রুমা ও থানচি এলাকায় অন্তত পাঁচজন সাধারণ মানুষকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহৃতদের মধ্যে কয়েকজনকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সংঘর্ষ ও অভিযানে সাতজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন।

বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সদস্য ললিয়ান জেম বমসহ আরও দুইজন নিহত হয়, যাদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও দীঘিনালা এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে বিনয় চাকমা ও সুজন চাকমাসহ মোট তিনজন নিহত হন। অপর একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া রাঙামাটির সাজেক এলাকায় প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে একজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে, যার নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে গত এক মাসে বান্দরবানে তিনজন, খাগড়াছড়িতে তিনজন এবং রাঙামাটিতে দুইজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন সাধারণ নাগরিক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।