UNPFII অধিবেশনে জেএসএসের বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের তীব্র প্রতিবাদ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:২২ পিএম, ২০২৬-০৪-২৪

UNPFII অধিবেশনে জেএসএসের বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের তীব্র প্রতিবাদ

জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম UNPFII-এর ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে জেএসএস কর্তৃক উপস্থাপিত বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত ও অসত্য দাবি করে তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মুখপাত্র পাইশিখই মারমা এ প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বাংলাদেশের সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এটি দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, বরং এটি বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের প্রতীক। দীর্ঘ সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার ধাপে ধাপে এ অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মতে, এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে একতরফাভাবে নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরা শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথকে আরও জটিল করে তোলে।

সংগঠনটি আরও জানায়, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং দেশের অভ্যন্তরীণ যেকোনো সমস্যা বা মতপার্থক্যের সমাধান সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। বিদেশি মঞ্চে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে কোনো মতভেদ থাকলে তা দেশের ভেতরেই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানানো হয় যেন তারা যাচাইবিহীন বা একপাক্ষিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোট জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত চাওয়া হলো শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সম্মানজনক সহাবস্থান। এ লক্ষ্য অর্জনে সকল দায়িত্বশীল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সবশেষে সংগঠনটি জানায়, দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি রক্ষার প্রশ্নে তারা আপসহীন অবস্থানে থাকবে এবং যেকোনো অপপ্রচার ও অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।