ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


আলমগীর মানিক    |    ০৯:৪২ পিএম, ২০২৬-০৬-০৯

ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের বিরতিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পাশাপাশি ২০২৫ সালে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তার অবদান ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এর আগে ২০২৫ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে ঋতুপর্ণা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

পাহাড়ি জনপদের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও অদম্য আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।

তার সাফল্য শুধু দেশের নারী ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেনি, বরং অসংখ্য তরুণীকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, গৃহ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর এই আর্থিক সহায়তা ঋতুপর্ণা চাকমার দীর্ঘদিনের অবদান ও সাফল্যের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ।

একই সঙ্গে এটি দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতি সম্মান ও উৎসাহ প্রদানের একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।