মৃত্যুর ৯ বছর: আজও কাটেনি রাঙামাটির পাহাড় ধসের আতঙ্ক


মেহেদী হাসান    |    ১১:১৮ পিএম, ২০২৬-০৬-১২

মৃত্যুর ৯ বছর: আজও কাটেনি রাঙামাটির পাহাড় ধসের আতঙ্ক

আজ থেকে ঠিক নয় বছর আগে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল পার্বত্য জেলা রাঙামাটি।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ওই দুর্যোগে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ১২০ জন প্রাণ হারান। নয় বছর পরও সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি ও আতঙ্ক রয়ে গেছে রাঙামাটিবাসীর মনে।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভোররাতে টানা বৃষ্টির কারণে রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি, ভেদভেদী, রাঙাপানিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে শতাধিক ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে।

মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যায় অসংখ্য পরিবার। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারান পাঁচ সেনা সদস্যও।

ভয়াবহ ওই দুর্যোগের পর কয়েকদিন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ঘটনার দীর্ঘ নয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্বজনদের বেদনা আজও কমেনি। প্রতি বছর ১৩ জুন ফিরে এলে নতুন করে স্মরণ হয় সেই কালরাতের কথা।

অনেক পরিবার এখনও স্বজন হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছে।

এদিকে ভয়াবহ ওই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য বিভিন্ন সময় সতর্কতা জারি করা হলেও বাস্তবতায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।

পুনর্বাসনের অভাব এবং আর্থিক সংকটের কারণে এখনও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালেই বসবাস করছেন। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চলতি বর্ষা মৌসুমেও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের অভাবে অনেকেই নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা ও বন উজাড় বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাবে।

তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটির সচেতন মহল।

২০১৭ সালের সেই মর্মান্তিক পাহাড় ধসের নয় বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণ করছে রাঙামাটি। একই সঙ্গে এমন বিপর্যয় যাতে আর কখনও ফিরে না আসে, সে প্রত্যাশাও সকলের।