রাজস্থলীতে মদ ভেবে বিষপানে এক গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু


আজগর আলী খান    |    ০৭:৪২ পিএম, ২০২৬-০৬-১৮

রাজস্থলীতে মদ ভেবে বিষপানে এক গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় মদের বোতল ভেবে ভুলবশত আগাছানাশক পান করার ঘটনায় এক গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত যুবকের নাম রিংকন বড়ুয়া (২৬)। তিনি রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ব্রংদং পাড়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মিলন বড়ুয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিংকন বড়ুয়া চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) রাতে বাড়িতে রাখা একটি বোতলকে মদের বোতল মনে করে ভুলবশত জমিতে ব্যবহৃত আগাছানাশক ওষুধ পান করেন রিংকন।

পান করার পরপরই তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং মুখ থেকে বিষাক্ত তরল ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এরই মধ্যে কিছু পরিমাণ বিষ তার পাকস্থলীতে চলে যায়।

এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিমুল দাশ জানান, ভুলবশত মদের পরিবর্তে আগাছানাশক পান করায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জানার পরপরই স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রামে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়দের মতে, অসাবধানতাবশত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সাধারণ পানীয়ের বোতলে সংরক্ষণ করার প্রবণতা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

রিংকন বড়ুয়ার মৃত্যু সেই ঝুঁকিরই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে থাকল।