মায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে বিষপান, হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়ছেন আমেনা


আইয়ুব চৌধুরী    |    ০৬:১৯ পিএম, ২০২৬-০৬-২০

মায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে বিষপান, হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়ছেন আমেনা

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের আমছড়া পাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে বিষপান করে গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন এক নারী।

পরে তাকে উদ্ধার করে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের আমছড়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোসাম্মৎ আমেনা বেগম (৪০) বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বিষপান করেন।

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। পরিবার ও স্থানীয়দের সহায়তায় শুক্রবার রাতে তাকে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টা ২০ মিনিটে আমেনা বেগমকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং বিষক্রিয়ার মাত্রা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পরে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। জানা যায়, আমেনা বেগম গাইন্দ্যা ইউনিয়নের আমছড়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহর মুল্লুকের কন্যা।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি যে পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী বিষপান করেছেন।

বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

গাইন্দ্যা সদর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক।

পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন মহল পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তারা মনে করেন, পারিবারিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মানসিক চাপ মোকাবিলায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খোলামেলা যোগাযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি।

স্থানীয়দের আশা, দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে আমেনা বেগম সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

একই সঙ্গে তারা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।