সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে প্রেমের টানে রাজস্থলীর পাহাড়ে চীনা যুবক


আজগর আলী খান    |    ০৩:০৬ এএম, ২০২৬-০৬-২৬

সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে প্রেমের টানে রাজস্থলীর পাহাড়ে চীনা যুবক

ভালোবাসার টানে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের চীন থেকে রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ রাজস্থলীতে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক।

প্রিয় মানুষকে বিয়ে করে সুখের সংসার গড়ার পর এবার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মহাজনপাড়ায় এসে পৌঁছান চীনা নাগরিক শি লা (৩৮)

তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা খইসিংপ্রু মারমা (৩০)-কে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তারা চীনে বসবাস করছেন এবং তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ওয়ার্ল্ড টক’-এর মাধ্যমে প্রায় তিন বছর আগে তাদের পরিচয় হয়।

শুরুতে বন্ধুত্ব থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক গভীর প্রেমে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুজনই একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর খইসিংপ্রু মারমা স্বামীর সঙ্গে চীনে চলে যান। বর্তমানে তারা সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

বিবাহের পর এই প্রথমবারের মতো দম্পতি খইসিংপ্রুর নিজ বাড়ি রাজস্থলীর মহাজনপাড়ায় বেড়াতে আসেন।

চীনা যুবকের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

বিদেশি নাগরিককে একনজর দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খইসিংপ্রু মারমার বাড়িতে ভিড় করেন।

চীনা নাগরিক শি লা বলেন,
“আমি খইসিংপ্রুকে খুব ভালোবাসি। তাকে বিয়ে করে সুখে-শান্তিতে সংসার করছি। বাংলাদেশে এসে তার পরিবারের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছি। এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ এবং অতিথিপরায়ণ।”

খইসিংপ্রু মারমা বলেন,
“অনলাইনে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আমরা দুজনই একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই।

আমি কখনো ভাবিনি যে আমাদের সম্পর্ক এতদূর এগিয়ে যাবে। এখন আমরা সুখে সংসার করছি। আমি চাই ভবিষ্যতেও আমরা এভাবেই একসঙ্গে ভালো থাকি।”

খইসিংপ্রুর পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের পছন্দকে তারা সম্মান জানিয়েছেন। তাদের মতে, মেয়ের সুখই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“আমাদের মেয়ের পছন্দে চীনা যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

এ বিষয়ে রাজস্থলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদ হোসেন বলেন,
“চীনা নাগরিক তার বৈধ পাসপোর্ট প্রদর্শন করেছেন। তিনি বর্তমানে তার স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে রাজস্থলীর মহাজনপাড়ায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি।”

দূর দেশ থেকে পাহাড়ের জনপদে ছুটে আসা এই প্রেমের গল্প এখন রাজস্থলীর মানুষের মুখে মুখে।

ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্বকে পেছনে ফেলে দুই ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার বন্ধন স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকেই এই ঘটনাকে ভালোবাসার শক্তির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।