টানাবৃষ্টিতে নাজেহাল রাঙামাটিবাসী; পাহাড়ধসে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত-২


আলমগীর মানিক    |    ০২:৩২ পিএম, ২০২৬-০৭-০৭

টানাবৃষ্টিতে নাজেহাল রাঙামাটিবাসী; পাহাড়ধসে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত-২

রাঙামাটিতে পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বর্ষণের মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লংগদু উপজেলায় নিজ বাড়ির বিদ্যুতের লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। এ দুই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লাল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় লক্ষী বিলাস চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। তিনি ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছিল। দুপুরে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে লক্ষী বিলাস চাকমা মাটিচাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে একই দিন সকাল ১১টার দিকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির বিদ্যুতের লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেনসন চাকমা (৩০) ওরফে বদক্যা চাকমার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন এবং উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকার নীল কান্তি চাকমার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে বেনসন চাকমা নিজ বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ লাইনে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ২০১৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের পুনরাবৃত্তি এড়াতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালে অবস্থান না করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ বা বিদ্যুতের লাইনে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে দক্ষ ব্যক্তির সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পৃথক এই দুই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দুই পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।