আলমগীর মানিক | ১০:১৬ পিএম, ২০২৬-০৭-১১
আলমগীর মানিক
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে শনিবার সন্ধ্যায় রাঙামাটিতে পৌঁছেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন এমপি।
সার্কিট হাউসে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে তিনি রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং থাকবে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং নতুন করে ঘর নির্মাণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের এই দুর্যোগ কোনো একদিনের ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক বাস্তবতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই এ ধরনের সংকট দেখা দেয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিক খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বহু পরিবার এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গ্রামীণ অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানোয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রোজ্জল চাকমা আবারও বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদমে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদর...বিস্তারিত
নানিয়ারচর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited