কিশোর গ্যাং ও মাদক ঠেকাতে রাঙামাটি শহরে সাঁড়াশি অভিযানে আটক-৩৫


আলমগীর মানিক    |    ১১:৫১ পিএম, ২০২৬-০৯-২৭

কিশোর গ্যাং ও মাদক ঠেকাতে রাঙামাটি শহরে সাঁড়াশি অভিযানে আটক-৩৫

আলমগীর মানিক

কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকের বিস্তার ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ সমন্বিত যৌথ বাহিনী।অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে অন্তত ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বখাটেদের আড্ডাস্থল, মাদক বেচাকেনা ও সেবনের স্থানসহ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অতীত অপরাধের তথ্য যাচাই করতে পিসিবিআর (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/অপরাধের রেকর্ড) যাচাইসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব জানিয়েছেন, সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর গ্যাং নির্মূলের লক্ষ্যে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযানে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ অভিযান। তাই বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠিত না হয়ে পুলিশের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যার পর অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অতীত রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের আটক রেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযানকে কেন্দ্র করে শহরের শান্তিনগর এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, অভিযানে নিরীহ শিশু-কিশোরদেরও আটক করা হয়েছে। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। 

পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও কোতয়ালি থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরীহদের যাচাই-বাছাই করে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। একই সময়ে রাতে কোতয়ালি থানায় আটক ব্যক্তিদের অভিভাবক, স্বজন ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী শনাক্ত ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; এমন নাগরিকদের যাতে অযথা হয়রানি না করা হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।