এক টাকার খাবার আর দামী পোশাকের উচ্ছ্বাসে খাগড়াছড়িতে স্বস্তি বিলিয়েছে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি    |    ০১:৪২ পিএম, ২০২১-১০-২৪

এক টাকার খাবার আর দামী পোশাকের উচ্ছ্বাসে খাগড়াছড়িতে স্বস্তি বিলিয়েছে ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’

করোনা মহামারীকালে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত জনপদে ভোগ্যপণ্য বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে হাজার হাজার মানুষের মন জয় করে নেয় ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা-মারমা ও বড়–য়াদের পবিত্র ‘প্রবারণা’ পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়ি শহরের ‘য়ংড বৌদ্ধ বিহার’ অঙ্গনে আয়োজন করে এক টাকার প্রবারণা বাজার।

গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপি সম্পন্ন বাজারে ১১’শ নারী-পুরুষ ও শিশুকে দেয়া হয় এক টাকার বিনিময়ে পছন্দসই থামি-লুঙ্গি-জামা-প্যান্ট-স্যান্ডেল এবং শীতবস্ত্র।
পরদিন বুধবারও দিনব্যাপি চলে একটাকার বিনিময়ে রকমারি খাবার বিতরণ। 

‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর ভলান্টিয়াররা জানান, অসহায়, হতদরিদ্র শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। কোনো লোক যেনো মনে কষ্ট নিয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে না হয় এটাই চান তাঁরা।

প্রতিষ্ঠানটি নির্বাহী কমিটির সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, সকল ধর্মের অনুষ্ঠানে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। যাতে গরীব অসহায় মানুষগুলো খুশি থাকতে পারে। নিজেদেরকে অনুষ্ঠানে ছোট মনে হয়না।

বিদ্যানন্দ থেকে আসা ভলান্টিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোবার হোসেন বলেন, আজকের (বুধবার, ২০ অক্টোবর) খাবার বিতরণে ৭ রকম খাবার রয়েছে। এটা বুফে সিস্টেম। যে যতটুকু ইচ্ছে খেতে পারবে। আমাদের ভলান্টিয়াররা নিজেরাই অতিথিদের ডেকে ডেকে খাবার পরিবেশন করে। ‘য়ংড’ বিহারে সারাদিনে ২ হাজারের বেশি মানুষকে খাবার প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। 
খাবার নেওয়া শিউলি মারমা জানান, এখান থেকে বিনা টাকায় খাবার নিয়েছি। খাবারের মান অনেক ভালো। এই খাবার যে কেউ খেতে পারবে। কোনো সংকোচ বোধ করার কিছু নেই। অনেক মজার মজার খাবার রয়েছে এখানে। এমন উদ্যোগের কারণে অনেক অসহায় মানুষের উপকার হবে। সবার সাথে তাল মিলিয়ে খেতে পারবে তারাও।

মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত ‘এক টাকার প্রবারণা বাজার’-এ যোগ দিতে এসে শরণার্থী টাস্কফোর্স-এর নির্বাহী কর্মকর্তা এম. রাশেদুল হক জানান, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনেক বন্ধু ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রমে সংযুক্ত আছেন। তাঁদের এই মহতী কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাটাকে একটি মানবিক প্রশান্তির জায়গা মনে করি।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী মঙ্গলবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি জানান, করোনাকালে খাগড়াছড়ির মানুষের প্রতি ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ যেই পরিমাণ সহযোগিতা করেছে, তা নজিরবিহীন। এখনো প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়ের পিছিয়েপড়া মানুষদের জীবন উন্নয়নে অনন্য উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন।