ট্রফি ভাঙ্গার ঘটনায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি;


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৫:২৩ পিএম, ২০২২-০৯-২৫

ট্রফি ভাঙ্গার ঘটনায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি;

বান্দরবানের আলীকদমে ফুটবল খেলার পুরস্কার অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের ট্রফি ভাঙার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরুবা ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠন হওয়া এ কমিটি রোববারের মধ্যেই প্রতিবেদন দেবে। এরপর ইউএনওর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বান্দরবানের ঘটনায় তিনি বলেন, ‘যে কোনো খারাপ কিছুর জন্য সমাজ যেমন বিব্রত হয়, আমরাও বিব্রত হই। প্রত্যেক ঘটনার প্রেক্ষিতে সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং বিধি অনুযায়ী কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন কোনো নজির কিন্তু নেই।

‘আমরা বান্দরবানের আগে পেছনে কী ঘটনা ছিলো সেটি কিন্তু জানি না। সুতরাং প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই এটি বলা যাবে।’

অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে আমার জন্য মন্তব্য করা কঠিন। প্রত্যেক ঘটনার পেছনে পরম্বরা থাকে। সেটি না দেখে না বুঝে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি (মেহরুবা) দায়িত্ব পালন করবেন কি না সেটা তদন্ত প্রতিবেদনেই উঠে আসবে। যদি তিনি দোষী হন তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’

গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মাংতাই হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ট্রফি ভাঙার ঘটনাটি ঘটে।

ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তার অপসারণ দাবি ও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন বিকেলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৭০ মিনিটের খেলায় চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। খেলা ড্র হয়ে যাওয়ার পর রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত দেন।

এতে আবাসিক জুনিয়ার দলকে ৩-১ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, রানার্সআপ হয় রেপারপাড়া একাদশ। খেলা শেষে ইউএনও মেহরুবা ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার সময় পক্ষ-বিপক্ষ দলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও শোরগোল বাধে।

ইউএনও হট্টগোলের কারণ জানতে চাইলে অনেকেই খেলার ফলাফল মানেন না জানিয়ে আবারও খেলার দাবি জানান। তখন ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এরপর তিনি খেলার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ট্রফি দুটি টেবিলের ওপর আছড়ে ভেঙে ফেলেন।