নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২:৫৯ পিএম, ২০২৫-০৪-৩০
রাঙ্গামাটির লংগদুতে আনুমানিক রাত তিনটায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে রাতের আধাঁরে ঘরে ডুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ ও তার পরিবার।
ভিকটিম জানায়, রাতে তিনি তার তিন শিশু সন্তান নিয়ে নিজের কুটে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ রাত তিনটায় তার ঘরে কেউ ডুকে। আমি ঘুমে থাকায়, আমাকে ঝড়িয়ে ধরলে আমার ঘুম ভঙ্গে, আমি সজাগ হয়ে দেখি মুখে গামছা বাঁধা একজন ব্যক্তি আমাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছে। আমার পরণের মেস্কি (কাপড়) দিয়েই আমার মুখ বেঁধে ফেলে,আমি জিজ্ঞেস কেন এমন করছেন সে বলছে আমাকে চায় তিনি, আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে খাটের থেকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আমার ঘরের বটি দা দিয়ে আমার গলায় ধরে, বলে চিৎকার করলে তুকে জবাই করে দিবো।
তারপরেও আমি ধস্তাধস্তি করি তখন পাশের বাড়ির ভাবি শুনতে পায়, তিনি আমাকে ডেকে জানতে চায় কি হয়েছে তখন আমি আমার ঘরে চোর ডুকেছে বলে তাকে আসতে বল্লে লোকটি বাটন সেট মোবাইল রেখে পালিয়ে যায়। লোকটি কে ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন,তার মুখ বাঁধা থাকায় চেহারা দেখিনি, তবে আচার-আচরণ ও কথাবার্তা এবং শরীর দেখে যা বুঝেছি তিনি ছিলেন আদু। এছাড়াও তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুঁজ নিয়ে জানতে পারি লোকটি ছিলো আবু সালেহ (আদু)। আমার এলাকার খালেক মুন্সির ছেলে।
ভিকটিমের দশ বছরের ছেলে বলেন, আমার আম্মু যখন চিৎকার করে তখন আমার ঘুম ভাঙ্গে, আমি ভয়ে কান্নাকাটি করি। লোকটা মাকে ধরে ধস্তাধস্তি করতেছে।
চিৎকার চেচামেচি শুনে পাশের বাড়ির গৃহবধু এগিয়ে আসলে অপরাধী পালিয়ে যায়। তিনি জানায় আমি এসে দেখি ভিকটিম কাঁপতেছে,অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত আসপাশের লোক ডেকে তার চাচাতো দেবর হাছানের মাধ্যমে ভোর চারটায় লংগদু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ডাক্তার রেফার করে খাগড়াছড়ি।
গৃহবধুর খালা, যিনি হাসপাতালেই মহিলার পাশে ছিলেন তিনি জানান, আমরা খেয়ে না খেয়ে হাসপাতাল ছিলাম। রোগীর অবস্থা ভালোনা, বমি আর পেট ব্যথায় ভোগছেন। আমাদের নিয়ে এলাকার মানুষজন কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি করছে। আমরা গরীব মানুষ আমরা ঝামেলা করতে পারবোনা। আমরা বিচার চাই। এছাড়াও তিনি বলেন, কারা যেনো হাছানের হাতে বিশ হাজার টাকা দিয়েছেন আমরা টাকা রাখিনি। রোগীকে ছয়দিন পর হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসে থানায় মামলা করেছি।
দেবর হাছানকে ফোন করলে, তিনি বিভিন্ন ভাবে এড়িয়ে যেতে চাইলেও পরে স্বীকার করে বলে ঘটনা সত্য, আমরা আদুর মোবাইল পেয়েছি, রোগীর অবস্থা ভালোনা তাই খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসছি। তবে এবিষয়ে নিউজ বা লেখালেখি না করার জন্য বলেন সে। ঘটনার পরদিন বিষয়টি ভালো ভাবে জানার জন্য তাকে আবার ফোন করা হলে সে জানায়,আমরা যে মামলা করবো লংগদু হাসপাতালের ছাড়পত্র হারিয়েগেছে কি ভাবে করবো? আপনাকে অপরাধীর পক্ষ হতে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নেও তিনি অস্বীকার করে বলে আমাকে টাকা দেয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু সালে (আদু)"র বাবা খালেক মুন্সি বলেন, আমার ছেলে একাজ করতে পারেনা। ঘটনার রাতে তারা একটা মোবাইল ফোন নিয়ে আমার বাড়ি আসে, আসার পর দেখি এটা আমার ছেলের মোবাইল। তারপর ছেলের বউয়ের নাম্বারে কল দিলে তখন জানি ছেলে ঘরে আছে। সকালে শুনি আমার ছেলের ঘরও চুরি হয়েছে। তিনি বলেন কেউ চুরি করে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবী করে জানান সঠিক ভাবে তদন্ত কর হোক। এদিকে আবু সালেহের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করলে, তার বাবা জানান সে বাড়িতে নাই জমিনে কাজ করছেন। কিন্তু আবু সালেহের নাম্বারে ফোন করলে রিসিভ করে সে ফোন বন্ধ করে দেয়।
খাগড়ছড়ি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত আর এম ও ডাক্তার রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, রাবেয়া নামে একজন ভর্তি ছিলেন, তবে আমি এখন বাহিরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছিনা।
লংগদু থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ভিকটিমের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আবু সালেহ একজনের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে। আমাদের পুলিশ তদন্ত করছে। দ্রুত আসল অপরাধীকে বের করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙামাটিতে চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০টি ফলন্ত গা...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited