তদবির নয় নিজের মেধা ও যোগ্যতায় রাঙামাটিতে পুলিশে চাকরি পেলো ওরা


আলমগীর মানিক    |    ০২:১১ এএম, ২০২৫-০৫-২৯

তদবির নয় নিজের মেধা ও যোগ্যতায় রাঙামাটিতে পুলিশে চাকরি পেলো ওরা

‘কোনো তদবির বা লেনদেন ছাড়াই চাকুরী হয়, তাও আবার পুলিশে’! এমন সুযোগ আমরা কল্পনাও করিনি। আমার পরিবারে তেমন কিছু নেই কিন্তু বাবা বলেছিলেন তুমি চেষ্টা করো, খরচ লাগলে আমি যথা সর্বস্ব দিয়ে তোমার জন্য চেষ্টা করবো, তবুও যেন আল্লাহ চাকুরীটা মিলিয়ে দেয়’। 

রাঙামাটি পুলিশ বিভাগে নতুন চাকুরী পাওয়া এক রিক্রুটেড কনস্টেবল এভাবেই তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে চোখের পানি ছেড়ে দোয়া করলেন রাঙামাটির পুলিশ সুপারসহ তার স্যারদের জন্য। ছেলেটি কিছুতেই তার নাম প্রকাশ করতে রাজি নয়। 

তার ধারণা এমন কথা বলেছে শুনলে কর্তৃপক্ষ তার চাকুরীর আদেশ বাতিল করেও দিতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকার এই সহজ সরল ছেলেটি এখন তার আগামী জীবন, বাবা মায়ের জন্য একটু স্বস্তি আর দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্নে বিভোর।

সে চাকুরীর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাবা মায়ের সাথে দেখ করার জন্য গ্রামে গিয়েছিল। আবার ফিরে এসেছে শহরে। এক আত্মীয়ের বাসায় থাকছে, জানিয়ে বললো, আমি এখন সবটুকু উজাড় করে একজন ভালো পুলিশ হওয়ার ট্রেনিং নিতে সর্বন্তকরণে প্রস্তুত।

লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার সকল ধাপ পেরিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে পুলিশ কনস্টেবল পদের জন্য। আরো দু’জন অপেক্ষমান তালিকায় আছে বরে জানালো। তথ্যমতে ১৪মে তাদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। 

পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হয়। মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চলমান টিআরসি নিয়োগে পর্যায়ক্রমে শারীরিক, লিখিত, মৌখিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

“সেবার ব্রতে চাকরি” বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ, ফেব্রুয়ারি-২০২৫ এর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার ও টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ড.এস এম ফরহাদ হোসেন তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। 

পুলিশ নাকি তাদের অভিনন্দনও জানিয়ে ফুল দিয়েছেন বলে জানালো ছেলেটি। এসময় কঠিন প্রতিযোগিতামূলক, তদবিরবিহীন, প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির জন্য মনোনীত হওয়ায় আরো অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে বলে জানালো সে।

পুলিশ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা অনেকেই তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা বলেন, আজ আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা,মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে নির্বাচিত হয়ে খুবই আনন্দিত। 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান এবং ভালো মনের মানুষ হওয়ায় মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তাই আমরা সকলেই আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।

পুলিশ সূত্র জানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পুলিশ সুপার ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, অত্যন্ত কঠিন প্রতিযোগিতামূলক, তদবিরবিহীন, প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আপনারা মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন তাই আপনারা দেশ সেবায় চূড়ান্ত ভাবে সততা দেশপ্রেম এবং কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন।