রাঙামাটি শহরে সীমানার বাইরে বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ মহিলা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৬:২৭ এএম, ২০২৫-০৭-১১

রাঙামাটি শহরে সীমানার বাইরে বসতঘর ভাংচুরের অভিযোগ মহিলা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে

রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীরের বাহিরে গিয়ে বসতঘর ভাংচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। কলেজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও জমি-বসত ভিটার মালিক জোৎনা বেগম কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। 

জোৎনা বেগম বলেন, চলতি বছরের গত ২৮ জুন কোন রকম অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই কলেজ প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীরের বাহিরে গিয়ে আমাদের বসত-ভিটা ভেঙ্গে দিয়েছে এবং উচ্ছেদ শুরু করে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন। উক্ত বসত-ভিটায় ভাড়াটিয়াদের হুমকি প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, কলেজ প্রশাসন যে স্থানে সীমানা প্রাচীর উর্ধমুখীকরণ প্রকল্পের সংষ্কার কাজ করছে সেখানে পূর্বে কোন স্থাপনা ছিলো না কিন্তু বর্তমানে যে স্থানে সংষ্কার কাজ করছে তা আমাদের সীমানায় পড়েছে, যা আমাদের জমি। উক্ত জায়গা বন্দোবস্তি পাওয়ার জন্য আমরা বিগত ০৮/০৩/১৯৯৮ ইং বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন করা আছে। সেখানে কলেজ প্রশাসনের কোন জায়গা বা জমি নেই। জোর পূর্বক উক্ত স্থানে স্থপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ফলে আমার ভূমি বেদখল করা হচ্ছে এবং আমরা ভূমি ধ্বসের আশংকায় রয়েছি। 

তিনি আরো জানান, রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন জায়গায়, আমরা আমাদের বাপ-দাদারা পরিবারের সদস্যগণ নিয়ে দীর্ঘ ৫০ বৎসর যাবৎ বসবাস করে আসছে। ওয়ারিশ ও জন্মসূত্রে আমরা মালিক ও দখলদার হই। এখানে প্রতিষ্ঠানের স্বত্ব, স্বার্থ, দখল বা মালিকানা নেই। তারপরো তারা জোড় পূর্বক বসত বাড়ি ভেঙ্গে স্থাপনার কাজ চলমান রেখেছে। 

এনিয়ে আমরা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বরাবারে গত ১ জুলাই, জায়গার বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর সহ যাবতীয় কর পরিশোধে রশিদসহ লিখিত আপত্তি জানালেও কলেজ প্রশাসন বসবাসরত স্থাপনার পিছনের অংশের ঘর ভাঙ্গার কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং র্নিমাণ কাজ চলমান রেখেছেন। 

উক্ত জায়গা হইতে জোর পূর্বক ভাংচুর ও উচ্ছেদ করতে পারেন না মর্মে আমরা কলেজ প্রশাসন ও অধক্ষ্য বরাররে একটি আইনী নোটিশ দিয়েছি। আমরা আইনগত ভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করবো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের ভিতরের গেইটের উত্তর পাশে লম্বা করে সীমানা প্রাচীর উর্ধমুখীকরণ প্রকল্পের ধারক দেওয়ালের কাজ চলছে। সীমানা প্রাচীরের বর্তমান স্থানে নির্মাণ করায়, বসতবাড়ীর প্রায় পশ্চিশ থেকে পূর্ব পর্যন্ত বিশ থেকে পঁচিশ ফুট ভিতরে ঢুকে গেছে। যার কারণে বসতবাড়ি ভাংচুরের মত ঘটনা ঘটেছে এবং জমির মালিক আপত্তি জানিয়েছে। 

এছাড়াও নির্মাণ কাজের নিয়ম-নীতি না মেনেই সীমানা প্রাচীর উর্ধমুখীকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। পুরানো দেয়ালের উপর আরসিসি ঢালাই কাজ করার কারনে অচিরেই দেওয়ালটি ধসে পরতে পারে। ঢালাই কাজে কিউরিং প্রিউড না মেনে ভীম কলাম ঢালাই করে ফেলা হচ্ছে। আরসিসি ঢালাই কাজে সাটারিং নিদির্ষ্ট সময় পার না করে খুলে ফেলা হচ্ছে, এজন্য কাজের গুনগত মান বজায় থাকছে না। এছাড়াও রাস্তার উভয় পাশে পুরাতন দুর্বল ওয়ালের উপর উর্ধমুখি সম্প্রসারণ করা হবে। এটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হবে জেনেও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান তাড়াহুড়ো করে অবকাঠামো নির্মাণ করে যাচ্ছে। 

উক্ত স্থানে রাস্তার নীচের অংশে ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে থেকে অনেক গুলো পরিবার বসবাস করে আসছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মানে ফলে ভবিষ্যতে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে আশংকা করছেন ভুক্তভোগী জোৎসা বেগম। 

বিরোধপূর্ণ জায়গায় অবকাঠামো-স্থাপনা নির্মাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাঙামাটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজক্ক চাকমা তেমন কথা বলতে রাজি হয়নি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান। কলেজ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এসব বিষয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। যদিও রাঙামাটি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর উক্ত সীমানা প্রাচীর উর্ধমুখীকরণ প্রকল্পের অবকাঠামো/ স্থপনা নির্মাণ কাজ করছে। কাজের ভালো-মন্দ উক্ত প্রতিষ্ঠানের নজরদারি করার কথা। 

রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের অধক্ষ্য প্রফেসর পারভীন আক্তার বলেন, কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীরের বাইরে গিয়ে বসতঘর ভাংচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমরা কারো ঘরবাড়ি ভাংচুর করিনি এবং জোর পূর্বক কাউকে উচ্ছেদ করিনি। যেখানে সীমানা প্রাচীর উর্ধমুখীকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে সেটি কলেজ প্রশাসনের জায়গা। প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জায়গা উদ্ধার করা হয়। 

তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের জায়গায় সীমানা প্রাচীর উর্ধমুখীকরণ প্রকল্পের ধারক দেওয়াল নির্মাণ করছি। পাশবর্তী জমির মালিক জোৎনা বেগমকে কলেজের জমি খালি করার জন্য আমরা অবগত করেছি এবং নোটিশ দিয়েছি। ওনারাও আমাদের একটি আইনী নোটিশ দিয়েছেন। কলেজ প্রশাসনের পক্ষথেকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। উক্ত স্থানে সকল প্রকার অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণ আইন মেনেই করা হচ্ছে। কারো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করা হচ্ছে।