খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে স্মারকলিপি প্রদান


আল মামুন    |    ০৬:৫৩ পিএম, ২০২৫-১১-০৩

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে স্মারকলিপি প্রদান

খাগড়াছড়ি জেলার জনবহুল গুইমারা উপজেলা গঠনের প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো স্থাপন হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।

বিগত ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর গুইমারা উপজেলা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী। উন্নয়নশীল এ অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও জনজীবনে যুক্ত হয়নি প্রয়োজনীয় সরকারি স্থাপনা।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গুইমারাবাসী সম্প্রতি রাজপথে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আল্টিমেটাম দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে তারা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (উপসচিব) নাজমুন আরা সুলতানা ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবেরের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, সহ-সভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, গুইমারা উপজেলার শিক্ষক ও সমাজসেবক মো. ইউচুপ, শিক্ষক বাবলু হোসেন, স্থানীয় প্রতিনিধি অংগ্য মগ, মাহবুব আলী, গুইমারা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আলী, সাইফুল ইসলাম, আলা উদ্দিন আরিফ, আরমান হোসেন, দিদারুল আলম বাবুল ও জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।

তারা জানান, গুইমারা একটি দুর্গম ও পাহাড়ি জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় সাধারণ জনগণকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও খাগড়াছড়ি সদর বা চট্টগ্রাম যেতে হয়। এতে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন, কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

অন্যদিকে গুইমারা এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নেই পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক। ফলে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ স্থানীয় ঔষধ বিক্রেতাদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অনেকের স্থায়ী অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া গুইমারা উপজেলায় অগ্নি নির্বাপণের জন্য “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স” স্টেশন না থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনায় সহায়তা নিতে হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফায়ার সার্ভিস থেকে। এতে সময়ক্ষেপণ হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।

গুইমারাবাসীর দাবি— দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক, যেন এলাকার মানুষ ন্যূনতম মৌলিক সেবা পায় এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।