বাঙ্গালহালিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ


আইয়ুব চৌধুরী    |    ০৮:১২ পিএম, ২০২৫-১১-২১

বাঙ্গালহালিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা ও পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ভিজিডি (VGD) প্রকল্পের সরকারি চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দের চাল বিক্রির সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাইয়ম হোসেন মিরাজ হাতে–নাতে ঘটনাটি ধরেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ নভেম্বর বিকেল পাঁচটায় ইউনিয়ন পরিষদ গেটসংলগ্ন পলাশ মুদির দোকানের সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকার নির্ধারিত ৩০ কেজি করে সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ২৬–২৭ কেজি করে দেওয়া হয়। বাকি থাকা চাল গোপনে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছিল।

বিষয়টি সন্দেহ হলে ইউপি সদস্য মিরাজ সাংবাদিক আইয়ুব চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় আজ পরিষদের সদস্য ও সদস্যারা জরুরি বৈঠক করেন। তারা জানান, পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে আগামী পরশু (রবিবার) রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউপি সদস্য কাইয়ম হোসেন মিরাজ ও ১নং ওয়ার্ড সদস্য এমদাদুল হক মিলন।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি ত্রাণ ও বরাদ্দ নিয়ে এমন অনিয়মের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আদোমং মারমা ও ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য থুইচিংমং মারমা (কুলিক্যা)-এর বিরুদ্ধে। চাল বহনে সহায়তাকারী ছিলেন টমটম চালক চিপাইউ মারমা।

এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান খান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। কোথায় কীভাবে অনিয়ম হয়েছে, তা পরিষদের সদস্যদের বসে আলোচনা করে ২০ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি—পূর্বেও ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তবে অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা হয়নি।

জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ত্রাণ ও বরাদ্দের সঠিক বণ্টনে নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।