জেএসএসের অভিযোগ: চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা নেই”


আল মামুন    |    ১০:১২ পিএম, ২০২৫-১১-৩০

জেএসএসের অভিযোগ: চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা নেই”

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর পূর্তিতে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নেতারা অভিযোগ করেছেন—রাষ্ট্রীয় আন্তরিকতার অভাবের কারণেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আজও হয়নি; ফলে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসেনি।

রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকালে খাগড়াছড়ির তেঁতুলতলায় জেএসএস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৩৪টি বাস্তবায়িত এবং ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হলেও এখনো ৯টি ধারা বাস্তবায়ন–প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাকি ধারাগুলো দীর্ঘ সময়েও অগ্রগতি না হওয়ায় তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসএস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুপিটার চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি শোভা কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক প্রীতি খীসা, সদর থানা কমিটির সভাপতি সুনীল চাকমা, পিসিপির সভাপতি সুজন চাকমা ঝিমিট, যুব সমিতির সভাপতি জ্ঞানপ্রিয় চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আহ্বায়ক মায়া চাকমা ও মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রত্মা তঞ্চগ্যাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নেতারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৮ বছর পেরিয়েও চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত থেকে গেছে।

তাদের দাবি—যে–ই সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন, কেউই চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রকৃত উদ্যোগ নেননি।

তারা আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালের পর টানা এক যুগের বেশি ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারও চুক্তির মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করেনি।

এমনকি সাম্প্রতিক ‘২৪ সালের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে তারা ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ

  • আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন জেলা পরিষদের কার্যকর ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নির্বাচন আয়োজন

  • ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালা চূড়ান্তকরণ

  • অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের নিজস্ব জমিতে পুনর্বাসন

  • অস্থানীয়দের দেয়া ভূমি–ইজারা বাতিল

  • তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী অধিবাসীদের সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার প্রদান

  • চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক অন্যান্য আইন সংশোধন

নেতাদের ভাষায়, “চুক্তির মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও শান্তি–বিনষ্টের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”