পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছর: জুম্ম জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে


আল মামুন    |    ০৪:২২ পিএম, ২০২৫-১২-০২

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছর: জুম্ম জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৮ বছর পূর্ণ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ জুম্ম জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বক্তারা।

তাদের অভিযোগ, চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কোনো ভুল নয়, বরং এটি পার্বত্য চুক্তিকে বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে খাগড়াছড়ির মারমা উন্নয়ন সংসদ কমিউনিটি সেন্টারে চুক্তির ২৮ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব অভিযোগ তোলেন বক্তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন” স্লোগানে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা

সভায় বক্তারা বলেন,
“৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে জুম্ম জাতিকে কলা ঝুলিয়ে দিয়ে তামাশা করে যাচ্ছে সরকারগুলো। ক্ষমতায় যে-ই আসুক, চুক্তিকে তারা খেয়ালখুশিমতো পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র যদি আন্তরিক হতো, তাহলে ২৮ বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়ন ঝুলে থাকত না।”

সভায় আরও বক্তৃতা করেন—
জেএসএস কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অংশুমান চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাথোয়াই অং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি কাকলী খীসা, উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রবি শংকর তালুকদার এবং খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রিয় কুমার চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর চুক্তি স্বাক্ষর করলেও সরকার পরবর্তীতে সেই চুক্তিকে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

এতে পাহাড়ের মানুষের ভাগ্য নিয়ে “ছিনিমিনি খেলা চলছে” বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

তারা আরও বলেন,
“চুক্তি বাস্তবায়নে জনগণকে যদি আবারও স্বশস্ত্র আন্দোলনের দিকে ধাবিত করা হয়, তবে এর পরিণাম শুভ হবে না।

৮ দফা দাবি আদায়ে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতেই হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ২রা ডিসেম্বর উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সুভাষ কান্তি চাকমা এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটার কথা থাকলেও এখনো চুক্তির বড় অংশ বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করছে জুম্ম জনগোষ্ঠী।