এনসিপি ছাড়লেন তাসনিম জারা, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:৪৩ পিএম, ২০২৫-১২-২৭

এনসিপি ছাড়লেন তাসনিম জারা, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি দলটির অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

একই সঙ্গে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা জানান, কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ডা. তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনিও শিগগিরই দল থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে খালেদ সাইফুল্লাহ সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করছেন।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েই ডা. তাসনিম জারা এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঢাকা-৯ আসনে তাঁকে জোটের প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু তাঁর পদত্যাগের পর ওই আসনে হুমায়রা নুরকে এনসিপির প্রার্থী করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

যদিও জামায়াতে ইসলামি এই আসন ছেড়ে দেবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নারী নেতাদের বড় একটি অংশ জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসছেন।

এ নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিব নাহিদ সারোয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন, যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুমসহ কয়েকজন নেতা দলীয় ফোরামে নিজেদের ক্ষোভ ও আপত্তির কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফেসবুক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা আরও লেখেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের পাশাপাশি দেশের জন্য কাজ করার।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় তিনি মনে করছেন, নির্দিষ্ট কোনো দল বা জোটের প্রার্থী না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

তিনি জানান, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি তিনি জনগণকে দিয়েছেন, তা রক্ষার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এর আগেই ডা. তাসনিম জারা গণচাঁদার মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।

সে লক্ষ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের কাছে স্বাক্ষর প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।