এনসিপি থেকে ডা. তাজনুভা জাবিনের পদত্যাগ, জোট প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৬:২৬ পিএম, ২০২৫-১২-২৮

এনসিপি থেকে ডা. তাজনুভা জাবিনের পদত্যাগ, জোট প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডা. তাজনুভা জাবিন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডা. তাজনুভা জাবিন।

পোস্টে তিনি এনসিপির জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে জোট গঠনের পুরো প্রক্রিয়াকে ‘পরিকল্পিত’ উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন।

ডা. তাজনুভা জাবিন লেখেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে তার আপত্তি কেবল আদর্শগত বা নারী ইস্যুতে নয়, বরং যেভাবে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।

তার অভিযোগ, সারাদেশে ১২৫ জনকে মনোনয়ন সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে শেষ মুহূর্তে মাত্র ৩০টি আসনে সমঝোতা করে বাকিদের কার্যত নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়াতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপির কোনো জেনারেল কাউন্সিল বা নির্বাচন কমিশনের সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

অথচ বাস্তবে প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং অন্য দলের পক্ষে প্রচারে নামতে বলা হচ্ছে।

জামায়াতের সঙ্গে অন্য দলগুলোর ৭০টির বেশি আসনে সমঝোতা হলেও এনসিপিকে মাত্র ৩০টি আসনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজেকে এনসিপির আদর্শিক রাজনীতির একজন ধারক উল্লেখ করে ডা. তাজনুভা জাবিন বলেন, গণপরিষদ, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র, মধ্যপন্থা, নারী ও জাতিসত্তাভিত্তিক রাজনীতির যে কথা দল শুরুতে বলেছিল, তা এখন আর চর্চা করা হচ্ছে না।

বরং ক্ষমতায় যাওয়ার তাড়নায় দল নিজের স্বকীয়তা হারাচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, দলের ভেতরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ‘মাইনাসের রাজনীতি’ চলছে, যা নতুন ধরনের বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির পথে বড় বাধা।

যারা প্রকৃতপক্ষে দলের নীতিকে ধারণ করেছেন, তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনসিপি যদি নিজের স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়াত, তবে ভবিষ্যতে যে কারও সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করা যেত।

কিন্তু প্রথম নির্বাচনেই সব পথ বন্ধ করে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জোটের দিকে সবাইকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তার বিরুদ্ধে চরিত্রহনন ও নানা অপপ্রচার চালানো হতে পারে, তবে আত্মসম্মানের জায়গা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো পথ ছিল না।

দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যূনতম আস্থা ও বিশ্বাস না থাকলে রাজনীতি করা সম্ভব নয়।

ডা. তাজনুভা জাবিন জানান, তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না এবং তার কাছে আসা সব ডোনেশন ধাপে ধাপে ফেরত দেবেন।

এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেষে তিনি বলেন, তিনি আগে কখনো রাজনীতি করেননি, জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আশায়।

সেই লক্ষ্যেই ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

একের পর এক শীর্ষ নেতার পদত্যাগে দলটির ভেতরে সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।