এনসিপিতে পদত্যাগের ঝড়: এক দিনে দুই নেতা ছাড়লেন দল


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:১৩ পিএম, ২০২৬-০১-০১

এনসিপিতে পদত্যাগের ঝড়: এক দিনে দুই নেতা ছাড়লেন দল

দুই ঘণ্টার ব্যবধানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মুশফিক উস সালেহীন পদত্যাগ করেছেন। তিনি দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় এনসিপি আহ্বায়কের কাছে অনলাইনে পদত্যাগপত্র পাঠান মুশফিক। এ নিয়ে একদিনে দলটির দুইজন নেতা পদত্যাগ করলেন।

এর আগে দুপুর পৌনে তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগ করেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন।

এই সময় তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে ‘পুরোনো উপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস’ করার অভিযোগ আনেন। চলতি মাসে ইতোমধ্যেই গত আট দিনে আটজন নেতা পদত্যাগ করেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের খবর বের হওয়ার পর থেকেই এনসিপির একটি অংশ এই জোটের বিরোধিতা করছে।

জোট সংক্রান্ত বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর স্মারকলিপি দেন। মুশফিক ও মুরসালীন ছিলেন এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীর মধ্যে।

এ ছাড়া ২৫ ডিসেম্বর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছয় নেত্রী অংশ নেন। তারা হলেন–জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা। বৈঠকে তারা প্রায় চূড়ান্ত হওয়া জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানান।

পদত্যাগের ধারা শুরু হয় তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনে। তাকে সমর্থন জানিয়ে সেদিন পদত্যাগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক।

এর দুইদিন পর পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। পরে পদত্যাগ ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। এমনকি তিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ারও ঘোষণা দেন।

৩০ ডিসেম্বর আরও দুই নেতা পদত্যাগ করেন। তারা হলেন–দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী।

৩১ ডিসেম্বর রাতে এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পদত্যাগ পাঠিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

এইভাবে এক মাসের মধ্যে এনসিপিতে পদত্যাগের ধারা তীব্র আকার নিচ্ছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।