নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭:২১ পিএম, ২০২৬-০১-০১
কুয়াশায় ঢাকা সকাল। আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। তবু রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে ভোর থেকেই।
কেউ ধীরে পা ফেলছেন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন। কারও চোখে অশ্রু, কারও হাতে তসবি, ঠোঁটে দোয়া—সব মিলিয়ে এক গভীর শোকের আবহ।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে বুধবার ঢাকা যেন রূপ নেয় এক নীরব শোকনগরীতে।
ঢাকায় বহু রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক জানাজা হয়েছে। বহু প্রভাবশালী নেতার শেষ বিদায় দেখেছে এই নগরী। তবে এই দিনটি ছিল ব্যতিক্রম।
কারণ এটি কেবল একজন রাজনীতিকের বিদায় নয়; এটি ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির প্রতিচ্ছবি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে, বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে আসেন।
শাহবাগ, মহাখালী, গাবতলী, আসাদগেট—সব পথ যেন মিলিত হয়েছে এক গন্তব্যে। মূল সড়ক, ফুটওভারব্রিজ, এমনকি আশপাশের ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো এলাকা মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকযাত্রার এক বিশাল জনসমুদ্রে।
এই জনসমুদ্রে ছিল না চেনা রাজনৈতিক স্লোগান, ছিল না কোনো শোডাউন। কাউকে আলাদা করে শৃঙ্খলায় রাখার প্রয়োজনও পড়েনি। সবাই যেন একই অনুভূতির পথিক—একজন নেত্রীকে হারানোর বেদনায় নীরবভাবে একত্রিত।
বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জানাজা শুরু হয় এবং শেষ হয় ৩টা ৫ মিনিটে। সময়ের হিসাবে মাত্র দুই মিনিট। কিন্তু সেই দুই মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আর কেবল একটি সড়ক ছিল না—তা হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের সাক্ষী।
বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার—সব দিক থেকে আসা মানুষের ঢল এক বিন্দুতে মিলিত হয়।
জানাজা শেষে অনেকে দাঁড়িয়ে থাকেন দীর্ঘ সময়। কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন, কেউ হাত তুলে দোয়া করেন। যেন বলা না হওয়া অনেক কথা তখনো বাতাসে ভাসছিল।
এই জনসমুদ্রের সবাই যে বিএনপির নেতাকর্মী, তা নয়। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন—এমন বহু সাধারণ মানুষও জানাজায় অংশ নেন।
উত্তরা থেকে হেঁটে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমি রাজনীতি করি না।
কিন্তু একজন নেত্রী দেশের জন্য এত নিপীড়ন সহ্য করেছেন—এটা আমাকে টেনেছে। কয়েক কিলোমিটার হাঁটলেও কষ্ট লাগেনি।”
নিজ খরচে বরিশাল থেকে আসা আইনজীবী হেলাল উদ্দিন বলেন, “এমন আপসহীন নেত্রী বাংলাদেশে খুব কম এসেছে।
শেষ বিদায়ে শরিক না হলে নিজের কাছেই অপরাধ মনে হতো। এই জানাজা শুধু শোকের নয়, বিএনপির জন্য এক ধরনের উজ্জীবনের বার্তাও।”
ভোলার চরফ্যাসন থেকে আসা মো. সোলেমান শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও জানাজায় দাঁড়ান।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা আবু বকর বলেন, “আমরা কোনো মিছিল করতে আসিনি, স্লোগান দিতেও না। শুধু সম্মান জানাতে এসেছি।”
রাজশাহী থেকে আসা প্রবীণ বিএনপি কর্মী ইসমাইল হোসেনের কণ্ঠে ছিল গভীর শূন্যতার কথা—“নেত্রী চলে যাওয়ায় মনে হচ্ছে, মাথার ওপরের একটা ছায়া সরে গেছে।”
রাজনীতির বাইরে থাকা অনেক মানুষের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আসা মোহাম্মদ শাকিল বলেন, “খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ছিল।
দেশ ছেড়ে যাননি—এটাই আমার শ্রদ্ধার জায়গা।” গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ষাটোর্ধ্ব সিফাতুর রহমান পায়ের ব্যথা নিয়েও হাঁটতে হাঁটতে বলেন, “দেশনেত্রীর জানাজায় থাকতে পারাটাই আমার জন্য সৌভাগ্য।”
ভিড়ের কারণে অনেকেই জানাজার মূল স্থানের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। তবু কেউ ফিরে যাননি। নীলফামারী থেকে আসা রিয়াজুল ইসলাম সঙ্গীকে হারিয়ে ফেলেও বলেন, “শেষ বিদায়ে না থাকলে মন মানত না।”
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা কলেজ শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, “এই জানাজা একটি নীরব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেল—বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনতার হৃদয় এখনো কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকেও খালেদা জিয়া মানুষের মনে জায়গা করে ছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের এই জনসমুদ্র সেটিই প্রমাণ করল।”
কেরানীগঞ্জের কৃষক মাহফুজুল হক বলেন, “দেশের প্রতি তাঁর টান বলে শেষ করা যাবে না। বিদেশে না গিয়ে দেশেই থেকেছেন—এই ভালোবাসা মানুষ ভুলবে না।”
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার জানাজা ছিল শুধু একটি বিদায় অনুষ্ঠান নয়। এটি ছিল মানুষের অনুভূতি, স্মৃতি ও ইতিহাসের এক নীরব উচ্চারণ—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রোজ্জল চাকমা আবারও বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদমে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদর...বিস্তারিত
নানিয়ারচর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited