পার্বত্য চট্টগ্রামে সম অধিকার আদায়ে তরুণদের মিলনমেলা


নাজিম আল হাসান    |    ০১:৩২ পিএম, ২০২৬-০১-০৪

পার্বত্য চট্টগ্রামে সম অধিকার আদায়ে তরুণদের মিলনমেলা

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলা ও মতবিনিময় সভা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ‘উষ্ণতা ছড়ানো দেশি হাঁসের ডিনার সন্ধ্যা’ নামে পরিচিত হলেও, প্রকৃত অর্থে এই আয়োজন ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত তরুণদের একটি মিলনমেলা ও মতবিনিময় সভা।

আনন্দঘন পরিবেশে দোয়া, আলোচনা এবং দেশি হাঁসের মাংসের ডিনারের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক শরিফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নুরুল আলম

নিজের প্রেজেন্টেশনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য খাতে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণ, সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত দায়িত্ব ও সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলনের রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে আহত বিপ্লবী ছাত্রনেতা মো. রাকিব, প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও রাঙামাটির বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মো. ইব্রাহিম, বিপ্লবী ছাত্রনেতা মো. জনি, ওয়াহিদুজ্জামান রোমান, ইব্রাহিম রুবেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষা এবং সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার আদায়ে ছাত্র সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের জন্য, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় অবদানের বিষয়েও আলোকপাত করেন।

একই সঙ্গে তিনি তরুণ সমাজকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মতো সাহস, নৈতিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে শরিফ হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত সকল জনগোষ্ঠী ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একত্র হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ না করবে, ততদিন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলন তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলন চালিয়ে যাবে।