রাজস্থলীতে তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি


আইয়ুব চৌধুরী    |    ১১:৩৯ পিএম, ২০২৬-০১-০৫

রাজস্থলীতে তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি

পার্বত্য রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় কয়েকদিন ধরে সূর্যহীন আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত অব্যাহত থাকায় ঠান্ডাজনিত নানা রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।

স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষ।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ধরনের আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি সূর্যের আলো না থাকায় শরীরে ভিটামিন-ডি-এর ঘাটতি দেখা দেয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে তোলে।

রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বলেন,
“আমাদের ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। অনেক পরিবারের কাছেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, দুর্গম গ্রামগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো না হলে ঠান্ডাজনিত রোগের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান,
“বিশেষ করে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অনেক সময় মানুষ আগুনের তাপ নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন—এক্ষেত্রেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীদের মাস্ক ব্যবহার করা এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।”

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, রাজস্থলী উপজেলার মতো দরিদ্র ও সচেতনতা-ঘাটতিপূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।