মেহেদী হাসান | ১২:৩৩ পিএম, ২০২৬-০১-০৭
মনোনয়নপত্র বাতিলকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কোন দলের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত কোন আসনে নির্বাচন করবেন—এই অনিশ্চয়তায় আটকে আছে আসন বণ্টনের আলোচনা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ বুধবার দলগুলোর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নেতারা বলছেন, সাময়িক জট থাকলেও নির্বাচনী সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
১১ দলীয় জোটের সূত্র জানায়, আগে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াত এনসিপিকে ৩০টি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছিল।
মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে দেওয়া হয় ১৩টি আসন।
খেলাফত মজলিসের অপর অংশ ও এলডিপিকে ছয়টি করে, এবি পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনকে তিনটি করে, নেজামে ইসলামকে দুটি এবং জাগপা ও বিডিপিকে একটি করে আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সব মিলিয়ে ৬৫টি আসন ছাড়তে সম্মত হয়েছিল জামায়াত।
এর বাইরে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও বড় পরিসরে সমঝোতা হয়েছিল। দুই দল ১৮৩টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছায়। প্রথম দফায় ইসলামী আন্দোলনকে ৩১টি আসন ছাড়তে রাজি হয় জামায়াত।
নিজেদের জন্য তারা রাখে ১৫২টি আসন। বাকি ৫২টি আসন জরিপের মাধ্যমে ভাগাভাগি করার সিদ্ধান্ত হয়—যে দলের প্রার্থী যেখানে শক্ত অবস্থানে থাকবেন, সেই আসন ওই দলের দখলে যাবে।
কিন্তু মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এই পুরো হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। জামায়াত সূত্র জানায়, দলটি মোট ১৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছিল।
ইসলামী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ ৪৫টি এবং এনসিপিসহ অন্য নয় দলকে ৬৫টি আসন ছাড়ার রূপরেখা ছিল।
কিন্তু সমঝোতায় থাকা একাধিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে। কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২, ঢাকা-২ ও কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা ১১ দলের সমর্থনে নির্বাচন করবেন বলে আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু এই চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, যার মধ্যে নয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ আসনের মধ্যে ৩৯টি আসনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। এনসিপির ৪৪ আসনের মধ্যে তিনটি এবং বাংলাদেশ খেলাফতের ৯৬ আসনের মধ্যে ১১টি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
কিছু আসনে পরিস্থিতি আরও জটিল। যেমন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতকে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল জামায়াতের।
সেখানে খেলাফতের প্রার্থী নুর হোসাইন নুরানীর পক্ষে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। কিন্তু বাছাইয়ে নুরানীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এখন সেখানে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের অপর অংশের প্রার্থীরা বৈধ হয়েছেন।
আপিলে নুরানীর প্রার্থিতা ফিরে না এলে, ওই আসনে শেষ পর্যন্ত কে লড়বেন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জট।
একইভাবে, ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ না হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এবং জাগপাকে ছাড় দেওয়া আসনেও প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় পুরো আসন বণ্টন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত নতুন করে অন্তত ২৫টি আসন দাবি করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি জোটে যোগ দেওয়ার পর মামুনুল হকের দল নিজেদের ভাগ থেকে তিনটি আসন ছাড়তেও রাজি হয়।
তবে জামায়াত ১৩টির বেশি আসন দিতে রাজি হয়নি। নতুন আলোচনায় খেলাফত চাইছে—যে আসনগুলোতে তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন আপিলে বৈধ হবে না, সেখানে জামায়াতের ভাগ থেকে অন্য আসন দিতে হবে।
এতে করে আগের সমঝোতার কাঠামো আবারও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আসন বণ্টনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যা প্রশাসনিক পক্ষপাতের ফল। আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন ন্যায়বিচার করবে।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ সেখ বলেন, “মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে—এটা সত্য। তবে আমরা আপিলের ফলাফল দেখছি।
কিছুটা বিলম্ব হলেও সমঝোতা ভাঙবে না। প্রার্থীরা মাঠে আছেন, নির্বাচনী কার্যক্রম চলবে।”
সব মিলিয়ে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত জটিলতা ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালেও, নেতাদের আশ্বাস—শেষ পর্যন্ত আলোচনা দিয়েই সংকটের সমাধান হবে।
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রোজ্জল চাকমা আবারও বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদমে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদর...বিস্তারিত
নানিয়ারচর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited