নৃত্যে ঝড় তুলছে তাজিম রহমান—রাঙামাটির ছেলে এখন জাতীয় তারকা


নাজিম আল হাসান    |    ১০:৫৯ পিএম, ২০২৬-০১-১৫

নৃত্যে ঝড় তুলছে তাজিম রহমান—রাঙামাটির ছেলে এখন জাতীয় তারকা

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদীয়মান নৃত্যশিল্পী হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তাজিম রহমান।

অল্প বয়সেই জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে সে রাঙামাটির মুখ উজ্জ্বল করছে।

তাজিম রহমান বর্তমানে মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ১০।

সে সাং দক্ষিণ ফরেস্ট কলোনি, থানা কোতোয়ালি, জেলা রাঙামাটি এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মো. বদিউল আলম।

শৈশবকাল থেকেই নৃত্যের প্রতি তাজিমের গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় সে আজ জাতীয় পর্যায়ে একজন সম্ভাবনাময় নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এক নজরে তাজিম রহমানের উল্লেখযোগ্য অর্জন

শিক্ষা পদক ২০২২ — স্বর্ণ পদক (একক অভিনয়)

প্রতিভা অন্বেষণ ২০২৩ — দ্বিতীয় স্থান (নৃত্য পরিবেশনা)

শিক্ষা পদক ২০২৪ — স্বর্ণ পদক (নৃত্য পরিবেশনা)

শাপলা কুঁড়ি ২০২৫ — তৃতীয় স্থান (লোকনৃত্য)

ভোরের পাখি ২০২৬ — চ্যাম্পিয়ন (সৃজনশীল নৃত্য)

ভোরের পাখি ২০২৬ — দ্বিতীয় স্থান (লোকনৃত্য)

সাম্প্রতিক সময়ে ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সৃজনশীল নৃত্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাজিম রহমান নতুন করে আলোচনায় আসে।

একই আসরে লোকনৃত্য বিভাগেও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সে তার বহুমুখী প্রতিভার উজ্জ্বল প্রমাণ দেয়।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, তাজিম রহমান ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে একজন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।

মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল কবির বলেন,
“তাজিম রহমান আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের নাম। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্যের মতো একটি সৃজনশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্ষেত্রে তার এই ধারাবাহিক সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অল্প বয়সেই সে যে নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয়। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করবে।”

নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে তাজিম রহমান বলে,
“আমি ভবিষ্যতে একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী হয়ে দেশের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চাই।”

তাজিমের পিতা মো. বদিউল আলম বলেন,
“একজন বাবা হিসেবে সন্তানের এই সাফল্য আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। ছোটবেলা থেকেই তাজিমের নৃত্যের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল।

আমরা পরিবার হিসেবে সবসময় চেষ্টা করেছি তার পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায় সহযোগিতা করতে।

আজ জাতীয় পর্যায়ে তার এই অর্জন আমাদের সব পরিশ্রমকে সার্থক করেছে। আমি তার শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

তাজিম রহমানের এই ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং রাঙামাটিবাসী গর্বিত।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন—এই উদীয়মান নৃত্যশিল্পী ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।