নির্বাচনী প্রচারণার বিলাইছড়িতে জুঁই চাকমার জনসংযোগ ও পথসভা


নাজিম আল হাসান    |    ০৯:১৪ পিএম, ২০২৬-০১-২৭

নির্বাচনী প্রচারণার বিলাইছড়িতে জুঁই চাকমার জনসংযোগ ও পথসভা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে গণতন্ত্র মঞ্চের সমর্থিত বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুঁই চাকমা নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার ৬ষ্ঠ দিনে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ব্যাপক জনসংযোগ ও পথসভা করেন।

এদিন বিলাইছড়ি বাজার, সদর উপজেলার জিবতলী ইউনিয়ন এবং মগবান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিনি নির্বাচনী ইশতেহার বিতরণ করেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রচারণার অংশ হিসেবে বিলাইছড়ি বাজারে এক পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জুঁই চাকমা বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজিবিসহ যৌথ বাহিনী মাঠে নামছে—এটি একটি ইতিবাচক দিক।

এতে ভোটারদের মনে সাহস ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হবে। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “আমার লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে, এবং এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।”

রাঙামাটি-২৯৯ আসনের জনগণ যদি তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে জাতীয় সংসদে পাঠান, তাহলে তিনি যুব সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঘুষমুক্ত রাঙামাটি গড়ে তুলবেন।

এটিই তার প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বলে জানান তিনি।

জুঁই চাকমা অভিযোগ করে বলেন, কিছু চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখিয়ে তার সঙ্গে কাজ না করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “তারা হয়তো বুঝে গেছে, তাদের সময় শেষের পথে।”

বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

বিলাইছড়ির ভোটাররা যদি কোদাল মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেন, তবে তিনি সবার আগে এ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।

পথসভায় তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ রাঙামাটি গড়তে হলে আগে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও রাঙামাটি জেলার পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হলো ঐক্যের অভাব ও সমন্বয়হীনতা। জেলার উন্নয়নের স্বার্থে এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ একটাই, তাই উন্নয়ন নীতিও এক হওয়া উচিত।”

রাঙামাটি জেলার জনগণের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এক দেশে দুই নীতি বন্ধের জন্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুঁই চাকমা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জুঁই চাকমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল চৌধুরী, সদস্য সচিব পলাশ চাকমা, যুগ্ম সদস্য সচিব অপু বড়ুয়া, সদস্য মঈন উদ্দিন, সাইমুন ইসলাম, নেনশন চাকমা, অরুনজিতা চাকমা, নিখিল চাকমা, নির্বাচনী মুখ্য এজেন্ট নির্মল বড়ুয়া মিলনসহ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বিলাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।