জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা


মেহেদী হাসান    |    ০২:১৩ পিএম, ২০২৬-০৩-০৭

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ হোসেন এবং রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন। এছাড়াও বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প মালিক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪৫-৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

সভায় পেট্রোল পাম্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করায় সাময়িক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাঙামাটিতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যায় পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি সাংবাদিকদেরও অনুরোধ জানান, অনলাইন ও অফলাইন মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচার করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক দূর করতে।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে যে তেলের দাম ২০০ টাকা হবে এবং তেল পাওয়া যাবে না। এসব গুজবের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছে, যার ফলে কিছু পাম্পে সাময়িক সংকট দেখা দিচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা যাতে তেল মজুত করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমিতি ও পেট্রোল পাম্প মালিকদের সমন্বয়ে একটি যোগাযোগ গ্রুপ খোলা হবে, যাতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যেসব দুটি পেট্রোল পাম্পে তেলের সংকট রয়েছে সেখানে আগামী রবিবার তেলের গাড়ি পৌঁছাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।