রাঙামাটি ট্রাক টার্মিনালে জায়গা সংকট: চরম ভোগান্তিতে চালক-শ্রমিকরা


মেহেদী হাসান    |    ১০:৪০ পিএম, ২০২৬-০৩-০৮

রাঙামাটি ট্রাক টার্মিনালে জায়গা সংকট: চরম ভোগান্তিতে চালক-শ্রমিকরা

রাঙামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনালে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ট্রাক, মিনিট্রাক ও পিকআপ চালক-শ্রমিকরা।

টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা এবং বিভিন্ন স্থাপনার কারণে গাড়ি পার্কিং নিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় চালক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, বহু বছর আগে টিনশেড ও পাকা ফ্লোর দিয়ে ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

বর্তমানে ট্রাক, মিনিট্রাক ও পিকআপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুযায়ী টার্মিনালের অবকাঠামো বা পার্কিং সুবিধা বাড়ানো হয়নি।

তাদের দাবি, টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থাপনার কারণে সেই জায়গা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

টার্মিনালের ভেতরে সিমেন্ট ও রডের গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার কিছু গাড়িও বছরের পর বছর টার্মিনালের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে।

ফলে পার্কিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

চালক-শ্রমিকরা জানান, টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় সড়কের দুই পাশে গাড়ি দাঁড় করাতে হয়।

এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। পাশাপাশি সড়কে গাড়ি রাখার কারণে প্রায়ই জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে চালকদের।

এদিকে শ্রমিকদের সংগঠন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা ট্রাক, মিনিট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২০০০ সালের দিকে টিনশেড ও পাকা ফ্লোর দিয়ে ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

সে সময় যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় তেমন সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে বর্তমানে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় শ্রমিকদের মতে, টার্মিনালের জরাজীর্ণ টিনশেড অপসারণ করে এবং ভেতরে থাকা অব্যবহৃত বা অপ্রয়োজনীয় স্থাপনাগুলো সরিয়ে সঠিকভাবে জায়গা ব্যবহার করা হলে পার্কিং সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব।

এতে যেমন চালক-শ্রমিকদের ভোগান্তি কমবে, তেমনি শহরের সড়কে যানজটও অনেকাংশে কমে আসবে।

এ অবস্থায় ট্রাক টার্মিনালের জায়গা সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা এবং পার্কিং সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চালক-শ্রমিকরা।