পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান


আলমগীর মানিক    |    ১১:১৫ পিএম, ২০২৬-০৩-০৯

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সমন্বিতভাবে কাজ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে অপচয় কমবে, কাজের গুণগত মান বজায় থাকবে এবং এর সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের জানুয়ারি ২০২৬ মাস পর্যন্ত অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পৃথকভাবে কাজ করে থাকে।

এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পিত সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি উন্নয়ন কাজে কৃচ্ছতা সাধন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী যে মিতব্যয়িতা ও সম্পদ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, তা সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির নির্দেশ দেন।

সভায় ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা।

তিনি বলেন, কোনো কাজ ফেলে রাখা যাবে না এবং প্রতিটি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে কোনো ধরনের গড়িমশি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনের (সারপ্রাইজ ভিজিট) মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান যাচাই করা হবে বলেও তিনি জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয়ের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ব্যয়ের অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা জাতীয় গড় অগ্রগতির (২১ দশমিক ১৮ শতাংশ) তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের কারণে কিছু সময় কাজের গতি কমে গেলেও এখন দ্রুততার সঙ্গে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় হতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি)-তে মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

এর মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৫৮ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম-এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কাজল তালুকদার, চেয়ারম্যান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং শেফালিকা ত্রিপুরা, চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ-সহ মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।