দুর্নীতির সুযোগ নেই, প্রকৃত দরিদ্ররাই পাবে সুবিধা— দীপেন দেওয়ান


মেহেদী হাসান    |    ০৭:২৫ পিএম, ২০২৬-০৩-১০

দুর্নীতির সুযোগ নেই, প্রকৃত দরিদ্ররাই পাবে সুবিধা— দীপেন দেওয়ান

হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণ ও সেবার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।

তিনি বলেন, দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্যই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে ঢাকার বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠ থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

এর পরপরই বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়

। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সরকারি কোনো কার্যক্রমে অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে তাদের অধিকার পান, তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মা-বোনদের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমতার ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের ১৪টি উপজেলায় প্রায় ৩৭ হাজার নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপন করতে পারবে।

তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, বেদে সম্প্রদায় ও প্রান্তিক কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে।

এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি পার্বত্যবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনির সভাপতিত্বে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।